১৯ অক্টোবর, ২০২৫
একজন কোরআনের হাফেজ পুরো পরিবারের জন্য আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকতের দরজা খুলে দেন। তিনি কোরআনের হেফাজতকারী, আল্লাহর বাণীর বাহক। এ কারণে কোরআনের হাফেজ যেমন মর্যাদাবান তেমনি তার মা-বাবাও পান অনন্য মর্যাদা। যে সন্তানের কণ্ঠে প্রতিদিন কোরআনের আয়াত উচ্চারিত হয়, সেই সন্তানের মা-বাবা কেয়ামতের দিন পাবেন নুরের মুকুট, আলোয় ভরে যাবে তাদের মুখমণ্ডল। পৃথিবীতে তারা যেমন কষ্ট করে সন্তানকে হাফেজ বানিয়েছেন, পরকালে তেমনই আল্লাহ তাদের সম্মানিত করবেন। হাদিসে এই মর্যাদা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে, যা হাফেজদের মা-বাবার জন্য এক অনন্য সৌভাগ্যের ঘোষণা।
হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত মুয়াজ জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করেছে এবং তাতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করেছে, তার মা-বাবাকে কেয়ামত দিবসে একটি (নুরের) তাজ (টুপি) পরানো হবে। যদি সূর্য তোমাদের ঘরে প্রবেশ করত, তাহলে ওই সূর্যের আলো অপেক্ষাও ওই টুপির আলো উজ্জ্বলতর হবে। এখন তোমরা চিন্তা করো, যে ব্যক্তি কোরআনের নির্দেশ অনুসারে আমল করে, তার মর্যাদা ও অবস্থা কত উত্তম হবে?’ (আবু দাউদ ১৪৫৩)
এছাড়া যারা কোরআন তেলাওয়াতকারী তারা আল্লাহর পরিবারভুক্ত। কোরআন তেলাওয়াতকারী জগৎ-সংসারের বিশিষ্ট জ্ঞানী ব্যক্তি। তাদের সুপারিশ আল্লাহতায়ালা কবুল করবেন। কোরআন তেলাওয়াতকারীর মা-বাবাকে আল্লাহতায়ালা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন।
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করে এবং তা মুখস্থ করে, অতঃপর কোরআন যা হালাল করেছে সে নিজের জন্য তা হালাল করেছে এবং কোরআন যা হারাম করেছে সে নিজের জন্য তা হারাম করেছে, তাহলে আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং নিজ পরিবারের এমন দশজনের জন্য তার সুপারিশ কবুল করা হবে, যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত ছিল।’ (তিরমিজি)