দারুচিনি আসল না নকল বুঝবেন যেভাবে

২১ অক্টোবর, ২০২৫

রান্নার একটি পরিচিত মসলা দারুচিনি। মিষ্টিজাতীয় খাবার থেকে শুরু করে মাংস, পোলাও সব পদ রান্না করতেই এই মসলা ব্যবহার করা হয়। তবে বাজার থেকে যে দারুচিনি কিনছেন তা আদৌ আসল তো? 

খেয়াল করে দেখবেন, বাজারের কিছু দারুচিনি হয় পাতলা, হালকা গন্ধের। আবার কোনটি হয় মোটা ছালের, উগ্র গন্ধের। বাজারে সাধারণত দুই ধরনের দারুচিনি পাওয়া যায়। এর কোনটি আসল, কোনটি নকল— বুঝবেন কী করে? চলুন যাক যাক- 

বাজারে মূলত দুই ধরনের দারুচিনি পাওয়া যায় ক্যাসিয়া ও সিলোন। অনেকেই মনে করেন সিলোন দারুচিনির পুষ্টিগুণ বেশি। একে ‘ভেরাম’ নামেও ডাকা হয়। শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ ভারতে এই দারুচিনি চাষ করা হয়। সিলোনের গন্ধ হালকা মিষ্টি এবং ছাল পাতলা হয়। এতে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে জৈব যৌগ ইউজেনল ও সিনামালডিহাইড থাকে, যা গন্ধ ও স্বাদের জন্য দায়ী। এই দুই উপাদান শরীরের জন্যও ভালো। 

সিলোন দারুচিনিকেই খাঁটি বলা হয়। এর দামও বেশি। এই দারুচিনি খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করে, শরীরে প্রদাহ কমায়, মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। সিলোনে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে যা জীবাণু প্রতিরোধ করতে পারে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ক্যাসিয়া দারুচিনির ছাল খুব মোটা এবং গন্ধও অতি তীব্র হয়। উগ্র গন্ধের জন্য এই দারুচিনিকে খাঁটি বলে মনে হলেও আদতে এর কোনো পুষ্টিগুণই নেই। দক্ষিণ চিনে এই দারুচিনি চাষ হয়। আসল দারুচিনির কোনো বৈশিষ্ট্যই এতে নেই। 

এই দারুচিনির দাম কম এবং বেশিরভাগ মানুষ এটিই কিনে নিয়ে যান। একে স্বাস্থ্যকর ভেবে অত্যধিক মাত্রায় খেতে শুরু করলে লিভারের স্বাস্থ্য বিগড়ে যাবে কিছু দিনেই। 

আসল না নকল দারুচিনি বুঝবেন যেভাবে 

রঙের পরীক্ষা: খাঁটি দারুচিনির রং হালকা খয়েরি বা হলদেটে খয়েরি হয়। অন্যদিকে নকল দারুচিনির রঙ হয় খুব গাঢ় লালচে খয়েরি।

পুরুত্ব: খাঁটি দারুচিনি খুব পাতলা, অনেকগুলো স্তরে মোড়ানো থাকে। সামান্য চাপ দিলেই ভেঙে যায়। নকল দারুচিনি হয় খুব মোটা, সাধারণত একটি করেই ছাল থাকে যা খুব পুরু হয়। ভাঙতে যথেষ্ট বলপ্রয়োগ করতে হয়। 

গন্ধ: সিলন দারুচিনির উগ্র গন্ধ নেই। খুবই হালকা গন্ধ। আর নকল দারুচিনির গন্ধ হয় খুব চড়া, ঝাঁঝালো।

স্বাদ: আসল দারুচিনির স্বাদ হালকা মিষ্টি, তেতো লাগবে না। নকল দারুচিনির স্বাদ খুব তেতো, কষাটে হয়ে থাকে।