৩১ অক্টোবর, ২০২৫
ইসলামের ইতিহাসে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাঁর শত্রুরা যখন তাঁকে রক্তাক্ত করেছে, কষ্ট দিয়েছে, এমনকি জাদু করেও ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে, তবুও তিনি প্রতিশোধের পথে হাঁটেননি। এরই এক অনন্য উদাহরণ হলো জুরাইক গোত্রের জাদুকর লাবিদ ইবনে আসাম-এর ঘটনা।
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘জুরাইক গোত্রের লাবিদ ইবনে আসাম রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর জাদু করেছিল। ফলে নবীজি (স.)-এর মাঝেমাঝে এমন ধারণা জন্ম নিত যে, তিনি কিছু করেছেন অথচ বাস্তবে করেননি।’ (সহিহ বুখারি: ৫৭৬৩)
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘একদিন বা একরাতে নবীজি (স.) আমার পাশে ছিলেন। তিনি বারবার দোয়া করতে থাকেন। এরপর বললেন, ‘হে আয়েশা! আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন আমি যা জানতে চেয়েছিলাম।’
স্বপ্নে প্রকাশ
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমার কাছে দুজন ফেরেশতা এলেন। একজন আমার মাথার কাছে ও অন্যজন পায়ের কাছে বসলেন।
একজন বললেন, ‘এ ব্যক্তির কী সমস্যা?’ অন্যজন বললেন, ‘এ ব্যক্তির ওপর জাদু করা হয়েছে।’
প্রথমজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে জাদু করেছে?’
দ্বিতীয়জন বললেন, ‘লাবিদ ইবনে আসাম।’
প্রথমজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিসের মধ্যে?’
দ্বিতীয়জন উত্তর দিলেন, ‘চিরুনির চুল এবং খেজুরগাছের ‘জুব’-এর মধ্যে।’
জাদুর বস্তু উদ্ধার
নবীজি (স.) কয়েকজন সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান এবং জাদুর বস্তু উদ্ধার করেন। পরে ফিরে এসে বলেন, ‘হে আয়েশা! কূপের পানি মেহেদির পানির মতো লাল ছিল, আর তার চারপাশের খেজুরগাছের মাথাগুলো শয়তানের মাথার মতো দেখাচ্ছিল।’
ক্ষমার মহানুভবতা
হজরত আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি এ ব্যাপারটি প্রকাশ করবেন না?’
নবীজি উত্তরে বললেন, ‘আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেছেন। আমি মানুষকে এমন বিষয়ে প্ররোচিত করব না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে।’
এই উত্তরই নবীজির অসীম উদারতা ও মহানুভবতার প্রতিফলন। তিনি চাইলে শাস্তি দিতে পারতেন, কিন্তু তা না করে মানুষকে অকল্যাণ ও প্রতিশোধের মনোভাব থেকে রক্ষা করলেন।
এই ঘটনায় রাসুলুল্লাহ (স.)-এর চরিত্রের দুটি দিক স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়:
১. আল্লাহর রহমতে মুক্তি: জাদুর মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
২. ক্ষমা ও মানবকল্যাণ: শত্রুর প্রতি প্রতিশোধ না নিয়ে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন- ক্ষমাই প্রকৃত সাহসিকতার প্রতীক।
রাসুলুল্লাহ (স.) আমাদের শিখিয়েছেন, ক্ষমা কেবল ব্যক্তিগত গুণ নয়, এটি সামাজিক দায়িত্বও বটে। কারণ ক্ষমার মাধ্যমে সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।