০৪ নভেম্বর, ২০২৫
কোরআনে এমন কিছু আয়াত আছে যেগুলো পড়লে বা শুনলে সিজদা দেওয়া ওয়াজিব। ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মতে কুরআনে এ রকম ১৪টি আয়াত আছে।সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা করার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন:
মানুষ যখন সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা দেয়, শয়তান তখন কাঁদতে কাঁদতে দূরে সরে পড়ে এবং বলতে থাকে হায়! দুর্ভাগ্যা! মানুষকে সিজদার নির্দেশ দেওয়া হলো, তারা সিজদা করলো, এর বিনিময়ে তারা জান্নাত লাভ করবে। আমাকে সিজদার নির্দেশ দেওয়া হলে কিন্তু আমি তা অস্বীকার করেছিলাম, ফলে আমি যাবো জাহান্নামে। (সহিহ মুসলিম: ৮১)
রাসুল (সা.) বড় জমায়েতে কুরআন তেলাওয়াত করার সময় যখন সিজদার আয়াত তেলাওয়াত তখন তিনি নিজেও সিজদা করতেন এবং সাহাবারাও তার সঙ্গে সিজদা করতেন।
আরও বর্ণিত আছে, মক্কা বিজয়ের সময় রাসুল (সা.) যখন সিজদার আয়াত তেলাওয়াত করছিলেন। তখন মাটিতে দাঁড়ানো সাহাবিরা মাটিতে এবং ঘোড়া ও উটের পিঠে সওয়ার সাহাবিরা তাদের বাহনে বসেই সিজদা করেন।
রাসুল (সা.) খুতবা দেওয়ার সময় সেজদার আয়াত তেলাওয়াত করলে মিম্বর থেকে নেমে সিজদা করে আবার খুতবা শুরু করতেন।
তবে তিলাওয়াতের পরপরই সিজদা দিয়ে দেওয়া জরুরি নয়। তিলাওয়াতের পর যে কোনো সময় সিজদা আদায় করা যায়। সিজদা ওয়াজিব হওয়ার ভয়ে কুরআন তিলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত বাদ দিয়ে পড়া মাকরুহ তাহরিমি। এটা কুরআনের আদব পরিপন্থী কাজ। কুরআন পড়ার সময় ধারাবাহিকভাবেই পড়ে যাওয়া কর্তব্য। ওই সময় সিজদা দেওয়ার সময় সুযোগ থাকলে পরে যে কোনো সময় সিজদা দেবে।