কৃমি সমস্যায় আক্রান্ত হয় বড়রাও, ৫ লক্ষণে সাবধান!

১৩ নভেম্বর, ২০২৫

কেবল শিশু নয়, কৃমির সমস্যা হতে পারে বড়দেরও। এমনটাই বলছেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন না থাকলে, অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে, জীবাণুমুক্ত পানির অভাবে পেটে কৃমির সমস্যা হতে পারে। 

ছোটদের মতো বড়দের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই কৃমির সংক্রমণ বোঝা যায় না। কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করানো হলে এর কারণে নানা সমস্যা হতে পারে। কোন কোন লক্ষণে বুঝবেন আপনি কৃমিতে আক্রান্ত? চলুন জানা যাক-

১. ঘন ঘন খিদা পাওয়া 

পেটে কৃমি হওয়ার অন্যতম লক্ষণ হলো ঘন ঘন খিদা পাওয়া। পাকস্থলিতে উপস্থিত জীবাণু এবং কৃমি খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণ করে বেঁচে থাকে। এজন্য ঘন ঘন খিদা লাগে। পরিমিত খাবার খাওয়ার পরও যদি ঘন ঘন খিদা লাগে তার মানে হতে পারে, পৌষ্টিকতন্ত্রে কৃমি বৃদ্ধি পেয়েছে।

২. ব্রণ ফুসকুড়ি  

সাধারণত দেহে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে ত্বকে ব্রণ, ফুসকুড়ির মতো সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু কয়েকটি কৃমির ক্ষেত্রেও (হুক ওয়ার্ম) ত্বকে এই ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই ধরনের কৃমির প্রভাবে দেহে ভিটামিন এ এবং জিঙ্কের অভাব দেখা দিতে পারে। ফলে ত্বকে চুলকানি হতে পারে।

৩. ঘন ঘন পেট ব্যথা 

ঘন ঘন পেট ব্যথা, পেট ফাঁপা বা ডায়েরিয়া হলে সতর্ক হোন। হঠাৎ করে দেহের ওজন কমে যাওয়ার নেপথ্যেও থাকতে পারে কৃমির সংক্রমণ। পেটে কৃমির আধিক্য তৈরি হলে পুষ্টিগুণের অভাব দেখা যায়। ফলে ওজন কমতে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র পরামর্শ অনুযায়ী দুই সপ্তাহের বেশি পেটের সমস্যা চলতে থাকলে কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত।

৪. পায়ুদ্বারে চুলকানি 

কয়েক ধরনের কৃমি রাত্রে ডিম পাড়ে। তখন পায়ুদ্বারে চুলকানি বা সুড়সুড়ি অনুভূত হতে পারে। অনেকেই এই অনুভূতিকে সাময়িক ভাবে অবজ্ঞা করেন। কৃমির আধিক্য বাড়লে অন্তর্বাস বা মলের মধ্যেও তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

৫. রক্তাল্পতা 

কৃমি পুষ্টি উপদান শোষণ করলে দেহে আয়রনের অভাব দেখা দেয়। ফলে ঘন ঘন ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। অনেকসময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘুম হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে আয়রনের অভাবে দেহে রক্তাল্পতাও দেখা দিতে পারে। তাই রক্ত পরীক্ষায় আয়রনের পরিমাণ কম ধরা পড়লে তার নেপথ্যে দায়ী থাকতে পারে কৃমি।

কৃমি শনাক্তকরণের জন্য করণীয় 

সাধারণত রক্ত পরীক্ষা থেকে কৃমির উপস্থিতি জানা যায়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা মল পরীক্ষার পরামর্শ দেন। কারণ তার থেকে কৃমি এবং তার ডিমের উপস্থিতি জানা সম্ভব।

কৃমির সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সতর্কতা

মাংস ও মাছ ভালো করে রান্না না করে খাওয়া উচিত নয়। দিনের মধ্যে একাধিকবার সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার অভ্যাস করুন। 

বাড়ির বাইরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। পরিশুদ্ধ পানীয় পানি কিনে পান করাই ভালো। বাড়ির বাইরে বাগানে বা মাটিতে খালি পায়ে হাঁটা উচিত নয়। মাটি থেকে ত্বকের মাধ্যমে কৃমির সংক্রমণ হতে পারে।