১৯ নভেম্বর, ২০২৫
ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা, দমবন্ধ ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বাড়ায় হৃদরোগের ঝুঁকি। ঘুমানোর সময় অনেকেই নাক ডাকেন। নাক ডাকলে সবচেয়ে অসুবিধায় পড়ে পাশে ঘুমানো মানুষটি। ঘুমের ব্যাঘাত কতজনই বা মেনে নিতে পারে।
তবে বেশ কিছু কারণে মানুষ নাক ডাকে। নাকে কোনো ধরনের ব্লক থাকলে, নাকের হাড়ের কোনো সমস্যা থাকলে, অতিরিক্ত ওজন বেড়ে গেলে, ঠান্ডা লাগলে ইত্যাদি।
মধ্যবয়সীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ পুরুষ ও ২০ শতাংশ নারী ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন। সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, গড়ে প্রতি দুজন ব্যক্তির মধ্যে একজন নাক ডাকেন।
দীর্ঘ দিনের নাক ডাকার সমস্যায় হৃদপিণ্ডের ডান ও বাম দিকের ভেন্ট্রিকুলারের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
নাক ডাকা কেন হয়
যখন ঘুমের সময় শ্বাসনালীর ভেতরে বাধা তৈরি হয়, তখন বাতাস চলাচলে ঘর্ষণ তৈরি হয়—এটাই নাক ডাকার মূল কারণ। অতিরিক্ত ওজন, নাক বন্ধ থাকা, ধূমপান, মদ্যপান, ঘুমের ওষুধ, বা নাক-গলার গঠনগত সমস্যায় নাক ডাকা বেড়ে যায়। ওজন বেশি হলে শ্বাসনালির ওপর বেশি চাপ পড়ে, শ্বাস-প্রশ্বাস সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
এতে শরীর ও মস্তিষ্কে অক্সিজেন কমে গিয়ে হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি হতে পারে।
কী করণীয়
নিয়মিত নাক ডাকা বা রাতে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ওজন কমানো, ধূমপান-মদ্যপান বন্ধ করা, রাতে চিৎ হয়ে না শোয়া এবং সঠিক ঘুমের নিয়ম মেনে চললে উপসর্গ অনেকটাই কমে। নাক বন্ধ থাকলে স্যালাইন স্প্রে বা গরম পানির ভাপ নিতে পারেন। হজমের সমস্যা কমানো, রাতে ভারী খাবার না খাওয়া এবং প্রয়োজন হলে CPAP মেশিন ব্যবহার চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন।
প্রাকৃতিক কিছু উপায়
কিছু ক্ষেত্রে মেন্থল অয়েল, গরম ভাপ, বা মধু-হলুদের মতো উপাদান সাময়িক আরাম দিতে পারে। তবে কোনো কিছু নিয়মিত গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সতর্কতা
নাক ডাকা কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়। এটি অবহেলা করলে ঘুমের ব্যাঘাত ছাড়াও হৃদরোগ ও হঠাৎ মৃত্যুর মতো বড় ঝুঁকির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
লক্ষণ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।