অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ করেন না? ডাকছেন নিজের বিপদ!

২৪ নভেম্বর, ২০২৫

অ্যান্টিবায়োটিক— আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বিপ্লবের নাম। নিউমোনিয়া থেকে শুরু করে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার —সবখানেই রোগীর সুস্থতার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে এসব ওষুধের ভুল ব্যবহার, মাত্রার কম-বেশি সেবন আর অপর্যাপ্ত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কারণে দ্রুত বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। যাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি বলে সতর্ক করেছে। ভবিষ্যতে এমন এক পোস্ট-অ্যান্টিবায়োটিক যুগ আসতে পারে, যেখানে সাধারণ সংক্রমণও হয়ে উঠবে মারাত্মক। 

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিংবা নিজেই ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ এনে খাওয়া শুরু করেন অনেকে। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, বেশিরভাগ মানুষই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পুরো কোর্স সম্পন্ন না করেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। এতেই ঘটে বিপদ।

এই অভ্যাসের জন্যই শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে জন্ম নেয় ব্যাকটেরিয়া। যার কারণে পরবর্তীতে শরীর ছোটোখাটো সংক্রমণের সঙ্গেও লড়াই করতে পারে না। 

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্ট কী?

সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক সময় পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক না খেলে শরীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয় না। যে ব্যাকটেরিয়াগুলো বেঁচে থাকে সেগুলো রোগীর শরীরে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে পরবর্তীতে রোগীর শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার করা হলে তখন অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ আর কাজ করে না। এ অবস্থাকেই চিকিৎসা শাস্ত্রে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শরীরে বেঁচে থাকা এসব ব্যাকটেরিয়াকে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া বলা হয়। এরা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতিতে অভিযোজিত হয়ে যায় বলে, নিজেদের স্বাভাবিক গতিতে বেড়ে উঠতে ও বংশবিস্তার করতে পারে। ফলে মানুষ বা পশুর শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।

আগে যে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে তাদের রোগ সেরে যেত, সেই একই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধে তখন আর রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

সঠিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

সঠিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার কারণে কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের পরও শরীরে সব ব্যাকটেরিয়া নিষ্ক্রিয় হয় না বরং নতুন আরও অনেক অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। 

এর প্রধান কারণ হলো, অনেক রোগীই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পুরো কোর্স সম্পন্ন করে না। একজন রোগীকে হয়তো সাতদিনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে দুদিন ওষুধ খেয়েই সুস্থ অনুভব করায় আর ওষুধ খান না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির শরীরের অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়াই মারা গেলেও সামান্য কিছু ব্যাকটেরিয়া শরীরে টিকে থাকে। 

ওষুধের পুরো কোর্স সম্পন্ন করা হলে শরীরে এসব ব্যাকটেরিয়ার থাকত না। এজন্য একজন ব্যক্তিকে আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে নির্ধারিত কোর্স অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।