২৫ নভেম্বর, ২০২৫
নোয়াখালীর সেনবাগে মিজানুর রহমান আশরাফুল (৬) নামে এক শিশুকে চকলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী ধান খেতে পুতে রাখার অভিযোগে শিশুর মায়ের সাবেক স্বামী তার অপর সহযোগীসহ দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. মুহাম্মদ মোরশেদ ইমতিয়াজ এ রায় প্রদান করেন। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে নগদ ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের বিজ্ঞ পিপি অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের নজরপুর গ্রামে ২০২১ সালে ২ এপ্রিল শিশু মিজানুর রহমান আশরাফুলকে পারিবারিক কলহের জেরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শিশুর মা পান্না আকতারের আগের স্বামী বাড়ি থেকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নেয়।
এরপর পার্শ্ববর্তী আবদুল হাকিমের ধান ক্ষেতে নিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ক্ষেতের মধ্যে পুতে রাখে। তিন দিন পর ধান ক্ষেতে একটি শিশুর অর্ধগলিত লাশ থাকার খবর পেয়ে ভিকটিমের বাবা আবুল কাশেম গিয়ে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তিনি ৬ এপ্রিল সেনবাগ থানায় সন্দেহভাজন ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পরে সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনার ক্লু উদঘাটন করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কাশেমের স্ত্রীর সাবেক স্বামী আলাউদ্দিন (৪০) ও তার সহযোগী আবদুল্লাহ হাসান আল মামুন (৩৪) স্বীকোরোক্তি দেওয়ায় অভিযুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ ড. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ মোরশেদ অভিযুক্ত দুজনকে ৩০২ ও ৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আলাউদ্দিন ও আবদুল্লাহ হাসান আল মামুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন।
সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নোয়াখালী জেলা আদালতের বিজ্ঞ পিপি অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন এবং আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মীর হোসেন।