৩০ নভেম্বর, ২০২৫
তাফসীর হলো আল-কুরআনের আয়াতসমূহের অন্তর্নিহিত শিক্ষা, বিধান ও উদ্দেশ্যের বিশদ ব্যাখ্যা। এর মাধ্যমে মুমিনরা আল্লাহর হেদায়েতের আলোতে জীবনকে সাজাতে সক্ষম হয়। মহান রব আমাদেরকে কুরআন বুঝে সে অনুযায়ী চলার সৌভাগ্য দিন।
*** গত সংখ্যায় প্রকাশিতের পর...
৪১ - ৪৫ আয়াত
قَالَ رَبِّ ٱجۡعَل لِّيٓ ءَايَةٗۖ قَالَ ءَايَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ ٱلنَّاسَ ثَلَٰثَةَ أَيَّامٍ إِلَّا رَمۡزٗاۗ وَٱذۡكُر رَّبَّكَ كَثِيرٗا وَسَبِّحۡ بِٱلۡعَشِيِّ وَٱلۡإِبۡكَٰرِ ﴿٤١﴾
৪১ ) আরজ করলোঃ “হে প্রভু! তাহলে আমার জন্য কোন নিশানী ঠিক করে দাও।” ৪১ জবাব দিলেনঃ “নিশানী হচ্ছে এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত মানুষের সাথে ইশারা-ইঙ্গিত ছাড়া কোন কথা বলবে না। এই সময়ে নিজের রবকে খুব বেশী করে ডাকো এবং সকাল সাঁঝে তাঁর ‘তাস্বীহ’ করতে থাকো।” ৪২
وَإِذۡ قَالَتِ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ يَٰمَرۡيَمُ إِنَّ ٱللَّهَ ٱصۡطَفَىٰكِ وَطَهَّرَكِ وَٱصۡطَفَىٰكِ عَلَىٰ نِسَآءِ ٱلۡعَٰلَمِينَ ﴿٤٢﴾
৪২ ) তারপর এক সময় এলো, ফেরেশতারা মারয়ামের কাছে এসে বললোঃ “হে মারয়াম! আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন, তোমাকে পবিত্রতা দান করেছেন এবং সারা বিশ্বের নারী সমাজের মধ্যে তোমাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের সেবার জন্য বাছাই করে নিয়েছেন।
يَٰمَرۡيَمُ ٱقۡنُتِي لِرَبِّكِ وَٱسۡجُدِي وَٱرۡكَعِي مَعَ ٱلرَّٰكِعِينَ ﴿٤٣﴾
৪৩ ) হে মারয়াম! তোমার রবের ফরমানের অনুগত হয়ে থাকো। তাঁর সামনে সিজদাবনত হও এবং যেসব বান্দা তাঁর সামনে অবনত হয় তুমিও তাদের সাথে অবনত হও।”
ذَٰلِكَ مِنۡ أَنۢبَآءِ ٱلۡغَيۡبِ نُوحِيهِ إِلَيۡكَۚ وَمَا كُنتَ لَدَيۡهِمۡ إِذۡ يُلۡقُونَ أَقۡلَٰمَهُمۡ أَيُّهُمۡ يَكۡفُلُ مَرۡيَمَ وَمَا كُنتَ لَدَيۡهِمۡ إِذۡ يَخۡتَصِمُونَ ﴿٤٤﴾
৪৪ ) হে মুহাম্মাদ! এসব অদৃশ্য বিষয়ের খবর, অহীর মাধ্যমে আমি এগুলো তোমাকে জানাচ্ছি। অথচ তুমি তখন সেখানে ছিলে না, যখন হাইকেলের সেবায়েতরা মারয়ামের তত্ত্বাবধায়ক কে হবে একথার ফায়সালা করার জন্য নিজেদের কলম নিক্ষেপ করছিল। ৪৩ আর তুমি তখনো সেখানে ছিলে না যখন তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল।
إِذۡ قَالَتِ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ يَٰمَرۡيَمُ إِنَّ ٱللَّهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٖ مِّنۡهُ ٱسۡمُهُ ٱلۡمَسِيحُ عِيسَى ٱبۡنُ مَرۡيَمَ وَجِيهٗا فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِ وَمِنَ ٱلۡمُقَرَّبِينَ ﴿٤٥﴾
৪৫ ) যখন ফেরেশতারা বললঃ “হে মারয়াম! আল্লাহ তোমাকে তাঁর একটি ফরমানের সুসংবাদ দান করেছেন। তার নাম হবে মসীহ ঈসা ইবনে মারয়াম। সে দুনিয়ায় ও আখেরাতে সম্মানিত হবে। আল্লাহর নৈকট্যলাভকারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
*** টিকা নির্দেশিকাঃ
৪১.
অর্থাৎ এমন নিশানী বলে দাও, যার ফলে একজন জরাজীর্ণ বৃদ্ধ ও বন্ধ্যা বৃদ্ধার ঘরে পুত্র সন্তান জন্ম নেবার মতো বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক ঘটনাটি ঘটার খবরটি আগাম জানতে পারি।
৪২.
খৃস্টানরা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে ‘আল্লাহর পুত্র’ ও ‘খোদা’ বলে বিশ্বাস করে যে ভুল করে চলেছে, সেই বিশ্বাস ও আকীদাগত ভুলটি সুস্পষ্ট করে তুলে ধরাই এই ভাষণটির মূল্য উদ্দেশ্য। সূচনায় হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের কথা বলার কারণ হচ্ছে এই যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম যেমন অলৌকিক পদ্ধতিতে হয়েছিল, ঠিক তেমনি তার থেকে মাত্র ছয় মাস আগে একই পরিবারে আর একটি অলৌকিক পদ্ধতিতে হযরত ইয়াহ্ইয়ার জন্ম হয়েছিল। এর মাধ্যমে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ খৃস্টানদের একথা বুঝাতে চাচ্ছেন যে, ইয়াহ্ইয়ার অলৌকিক জন্ম যদি তাকে খোদা ও উপাস্য তে পরিণত না করে থাকে তাহলে ঈসার নিছক অস্বাভাবিক জন্ম পদ্ধতি কিভাবে তাকে ‘ইলাহ’ ও ‘খোদা’র আসনে বসিয়ে দিতে পারে?
৪৩.
অর্থাৎ লটারী করছিল। এই লটারী করার প্রয়োজন দেখা দেবার কারণ এই ছিল যে, হযরত মারয়ামের মাতা হাইকেলে আল্লাহর কাজ করার জন্য মারয়ামকে উৎসর্গ করেছিলেন। আর তিনি মেয়ে হবার কারণে হাইকেলের খাদেম ও সেবায়েতদের মধ্য থেকে তাঁর তত্ত্বাবধায়ক ও অভিভাবক নিযুক্ত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
*** চলমান ***
- সংগৃহিত