কুরআনের ধারাবাহিক তাফসীর (সূরা আল ইমরান # ৫০ আয়াত)

০২ ডিসেম্বর, ২০২৫

তাফসীর হলো আল-কুরআনের আয়াতসমূহের অন্তর্নিহিত শিক্ষা, বিধান ও উদ্দেশ্যের বিশদ ব্যাখ্যা। এর মাধ্যমে মুমিনরা আল্লাহর হেদায়েতের আলোতে জীবনকে সাজাতে সক্ষম হয়। মহান রব আমাদেরকে কুরআন বুঝে সে অনুযায়ী চলার সৌভাগ্য দিন।

*** গত সংখ্যায় প্রকাশিতের পর... 

সূরা আল ইমরান

৫০ আয়াত

Bismillah

 

وَمُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيَّ مِنَ ٱلتَّوۡرَىٰةِ وَلِأُحِلَّ لَكُم بَعۡضَ ٱلَّذِي حُرِّمَ عَلَيۡكُمۡۚ وَجِئۡتُكُم بِـَٔايَةٖ مِّن رَّبِّكُمۡ فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿٥٠﴾

৫০ ) আমি সেই শিক্ষা ও হিদায়াতের সত্যতা ঘোষণা করার জন্য এসেছি, যা বর্তমানে আমার যুগে তাওরাতে আছে। ৪৬   আর তোমাদের জন্য যেসব জিনিস হারাম ছিল তার কতকগুলো হালাল করার জন্য আমি এসেছি। ৪৭   দেখো, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে আমি নিশানী নিয়ে এসেছি। কাজেই আল্লাহ‌কে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

"إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُم مُّحْسِنُونَ"
— নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথেই আছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে ও সৎকর্ম করে।
(সূরা নাহল ১৬:১২৮)

*** টিকা নির্দেশিকাঃ

৪৬.

অর্থাৎ আমি যে আল্লাহ‌র পক্ষ থেকে প্রেরিত হয়েছি এটি তার আর একটি প্রমাণ। যদি আমি তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত না হতাম বরং একজন মিথ্যা দাবীদার হতাম, তাহলে আমি নিজেই একটি ধর্ম তৈরী করে ফেলতাম এবং দক্ষতা সহকারে তোমাদের আগের পুরাতন ধর্ম থেকে বিচ্যুত করে নিজের নতুন উদ্ভাবিত ধর্মের দিকে টেনে আনার প্রচেষ্টা চালাতাম। কিন্তু আল্লাহ‌র পক্ষ থেকে তাঁর নবীরা আমার পূর্বে যেসব দ্বীন এনেছিলেন আমি তো সেই আসল দ্বীনকে মানি এবং তার শিক্ষাকে সঠিক গণ্য করি।

বর্তমানে প্রচলিত ইঞ্জিল থেকেও একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, মূসা আলাইহিস সালাম ও অন্যান্য নবীগণ যে দ্বীনের প্রচার করেছিলেন হযরত ঈসা আলাইহিস সালামও সেই একই দ্বীনের প্রচারক ছিলেন। যেমন মথির বর্ণনা মতে পাহাড় থেকে প্রদত্ত ভাষণে ঈসা আলাইহিস সালাম পরিষ্কার বলেনঃ

“একথা মনে করো না যে, আমি তাওরাত বা নবীদের কিতাব রহিত করতে এসেছি। রহিত করতে নয় বরং সম্পূর্ণ করতে এসেছি।” (৫: ১৭)।

একজন ইহুদী আলেম হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন, দ্বীনের বিধানের মধ্যে সর্বাগ্রগণ্য হুকুম কোনটি? জবাবে তিনি বললেনঃ

—“ছবি উপর ক্লিক করে মেহেনতি কন্ঠ’র পেজটি ভিসিট করুন ও মেহেনতি মানুষের সাথে থাকুন”

“তোমার সমস্ত অন্তঃকরণ তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত মন দিয়ে তোমার ঈশ্বর প্রভুকে প্রেম করবে। এটি মহৎ ও প্রথম হুকুম। আর দ্বিতীয়টি এর তুল্য; তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসবে। এই দু’টি হুকুমের ওপরই সমস্ত তাওরাত ও নবী রসূলদের সহীফা ও গ্রন্থসমূহ নির্ভরশীল।” (মথি ২২: ৩৭-৪০)

আবার হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর শিষ্যদের বলেনঃ

‍‍“ধর্মগুরু ও ফরীসীরা মূসার আসনে বসেছে। তারা তোমাদের যা কিছু বলে তা পালন করো ও মানো। কিন্তু তাদের মতো কাজ করো না। কারণ তারা বলে কিন্তু করে না।” (মথি ২৩: ২-৩)।

৪৭.

অর্থাৎ তোমাদের মূর্খদের কাল্পনিক বিশ্বাস, ফকীহদের আইনের চুলচেরা বিশ্লেষণ, বৈরাগ্যবাদীদের কৃচ্ছ্রসাধনা এবং অমুসলিম জাতিদের তোমাদের ওপর প্রাধান্য ও শাসন প্রতিষ্ঠার কারণে তোমাদের আল্লাহ‌ প্রদত্ত আসল শরীয়াতের ওপর যেসব বিধি বন্ধনের বাড়তি বোঝা আরোপিত হয়েছে, আমি সেগুলো রহিত করবো এবং আল্লাহ‌ যেগুলো হালাল বা হারাম গণ্য করেছেন সেগুলোই আমি তোমাদের জন্য হালাল ও হারাম গণ্য করবো।

*** চলমান ***

- সংগৃহিত