০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
তাফসীর হলো আল-কুরআনের আয়াতসমূহের অন্তর্নিহিত শিক্ষা, বিধান ও উদ্দেশ্যের বিশদ ব্যাখ্যা। এর মাধ্যমে মুমিনরা আল্লাহর হেদায়েতের আলোতে জীবনকে সাজাতে সক্ষম হয়। মহান রব আমাদেরকে কুরআন বুঝে সে অনুযায়ী চলার সৌভাগ্য দিন।
*** গত সংখ্যায় প্রকাশিতের পর...
৫৬ - ৬০ আয়াত
فَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَأُعَذِّبُهُمْ عَذَابًۭا شَدِيدًۭا فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْـَٔاخِرَةِ وَمَا لَهُم مِّن نَّاصِرِينَ
৫৬ ) যারা কুফরী ও অস্বীকার করার নীতি অবলম্বন করেছে তাদেরকে দুনিয়ায় ও আখেরাতে উভয় স্থানে কঠোর শাস্তি দেবো এবং তারা কোন সাহায্যকারী পাবে না।
وَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَيُوَفِّيهِمْ أُجُورَهُمْۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ ٱلظَّٰلِمِينَ
৫৭ ) আর যারা ঈমান ও সৎকাজ করার নীতি অবলম্বন করেছে, তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। ভালো করেই জেনে রাখো আল্লাহ জালেমদের কখনোই ভালোবাসেন না।”
ذَٰلِكَ نَتْلُوهُ عَلَيْكَ مِنَ ٱلْآيَٰتِ وَٱلذِّكْرِ ٱلْحَكِيمِ
৫৮ ) এই আয়াত ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা আমি তোমাকে শুনাচ্ছি।
إِنَّ مَثَلَ عِيسَىٰ عِندَ ٱللَّهِ كَمَثَلِ ءَادَمَۖ خَلَقَهُۥ مِن تُرَابٍۢ ثُمَّ قَالَ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ
৫৯ ) আল্লাহ্র কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো। কেননা আল্লাহ তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেন এবং হুকুম দেন, হয়ে যাও, আর তা হয়ে যায়। ৫৩
ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلَا تَكُن مِّنَ ٱلْمُمْتَرِينَ
৬০ ) এ প্রকৃত সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। কাজেই তুমি সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। ৫৪
*** টিকা নির্দেশিকাঃ
৫৩.
অর্থাৎ যদি নিছক অলৌকিক জন্মলাভ কারো খোদা বা খোদার পুত্র হবার যথেষ্ট প্রমাণ বলে বিবেচিত হয়ে থাকে, তাহলে সর্বপ্রথম তোমাদের আদম সম্পর্কেই এহেন আকীদা পোষণ করা উচিত ছিল। কারণ ঈসা কেবল বিনা পিতায় জন্মলাভ করেছিলেন কিন্তু আদম জন্মলাভ করেছিলেন পিতা ও মাতা উভয়ের সাহায্য ছাড়াই।
৫৪.
এ পর্যন্তকার ভাষণে যেসব মৌলিক বিষয় খৃস্টানদের সামনে পেশ করা হয়েছে সেগুলোর সংক্ষিপ্তসার ক্রমানুসারে নীচে দেয়া হলোঃ
প্রথম যে বিষয়টি তাদের বুঝাবার চেষ্টা করা হয়েছে সেটি হচ্ছে, যেসব কারণে ঈসাকে আল্লাহ বলে তোমাদের মনে বিশ্বাস জন্মেছে, সেগুলোর মধ্যে একটি কারণও এই ধরনের বিশ্বাসের ভিত্তি হতে পারে না। ঈসা একজন মানুষ ছিলেন। বিশেষ কারণে ও উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাঁকে অস্বাভাবিক পদ্ধতিতে সৃষ্টি করা সঙ্গত মনে করেন। তাঁকে এমন সব মু’জিয়া তথা অলৌকিক ক্ষমতা ও নিদর্শন দান করেন, যা ছিল তাঁর নবুওয়াতের দ্ব্যর্থহীন আলামত। সত্য অস্বীকারকারী ও সত্যদ্রোহীদের দ্বারা শূলবিদ্ধ হওয়া থেকে তাকে রক্ষা করেন। বরং আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে উঠিয়ে নেন। প্রভু তার দাসকে যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করার ক্ষমতা ও ইখতিয়ার রাখেন। নিছক তাঁর সাথে এই অস্বাভাবিক ব্যবহার দেখে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া যে, তিনি নিজেই প্রভু ছিলেন অথবা প্রভুপুত্র ছিলেন অথবা প্রভুত্বে ও মালিকানা স্বত্বে অংশীদার ছিলেন, এটা কেমন করে সঠিক হতে পারে?
দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তাদের বুঝানো হয়েছে সেটি হচ্ছে এই যে, ঈসা যে দাওয়াত নিয়ে এসেছিলেন সেই একই দাওয়াত নিয়ে এসেছেন মুহাম্মাদ ﷺ । উভয়ের মিশনের মধ্যে সামান্য চুল পরিমাণ পার্থক্যও নেই।
এই ভাষণের তৃতীয় মৌলিক বিষয়টি হচ্ছে, কুরআন যে ইসলামের দাওয়াত পেশ করছে এই ইসলামই ছিল হযরত ঈসার পর তাঁর হাওয়ারীদের ধর্ম। পরবর্তীকালের ঈসায়ী ধর্ম হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের শিক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকেনি এবং তাঁর অনুসারীবৃন্দ হাওয়ারীদের অনুসৃত ধর্মের ওপরও প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারেনি।
*** চলমান ***
- সংগৃহিত