২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ থাকলেও নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে হতাশা।
মোট ১৯টি পদের মধ্যে ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ শীর্ষ তিন পদসহ ১৬টি পদেই নেই কোনো নারী প্রার্থী। পুরো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯৭ জন প্রার্থী, যার মধ্যে নারী মাত্র সাতজন। শাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদে চারজন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক পদে একজন এবং সদস্য পদে দুজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। বাকি ৯০ জনই পুরুষ। ফলে নারী প্রার্থীর হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ২১ শতাংশ।
নির্বাচনী প্যানেল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলে একজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলে রয়েছেন তিনজন নারী প্রার্থী। স্বতন্ত্রদের ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলে রয়েছেন দুজন নারী। প্যানেলের বাইরে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদে একজন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, শুরুতে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ১৫ জন নারী প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
নারী প্রার্থী কম হওয়ার বিষয়ে শাকসু নির্বাচনের মুখপাত্র অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রীরা পড়াশোনায় বেশি ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া অতীত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীরা রাজনৈতিক কারণে সাইবার বুলিং ও স্লাট শেমিংয়ের শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, অনলাইন ও অফলাইনে নানাভাবে হেনস্তার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে পরিবার থেকেও অনেক সময় ছাত্রীদের নির্বাচন করতে নিরুৎসাহিত করা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।