১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
বর্তমান সময়ের একটি অতি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা থাইরয়েডের সমস্যা। আমাদের গলার কাছে রয়েছে প্রজাপতি আকৃতির এই গ্রন্থিটি। এটি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এই থাইরয়েডের সমস্যার কারণে কেউ অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যান আবার কেউ অনেক চিকন হয়ে যান। একই হরমোনজনিত সমস্যায় কেন বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া ঘটে?
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রধানত দুটি হরমোন নিঃসৃত হয়— T3 এবং T4 । যখন এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখনই ওজনের ওপর এর প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকরা বিষয়টিকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করেন-
যখন থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না, তখন তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে। এই অবস্থায় হরমোনের অভাবে শরীরের মেটাবলিজম রেট বা বিপাক হার খুব ধীর হয়ে যায়। ফলে শরীর ক্যালরি পোড়াতে পারে না এবং তা ফ্যাট হিসেবে জমা হতে থাকে।
হাইপোথাইরয়েডিজম লক্ষণ:
শরীর ফুলে যাওয়া (Water retention)
ক্লান্তি
কোষ্ঠকাঠিন্য
অল্প খাবার খেলেও দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া
এটি আগেরটির উল্টো। যখন গ্রন্থিটি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হরমোন তৈরি করে, তখন তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়। এই অবস্থায়, অতিরিক্ত হরমোনের কারণে শরীরের মেটাবলিজম অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যায়। শরীর জমানো ফ্যাট ও পেশি পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।
হাইপারথাইরয়েডিজমের লক্ষণ:
বুক ধড়ফড় করা
অতিরিক্ত খিদে পাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
রাতে ঘুম না আসা
থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেও সঠিক জীবনযাত্রার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে-
আয়োডিন যুক্ত খাবার:
হাইপোথাইরয়েড থাকলে আয়োডিনযুক্ত লবণ ও সামুদ্রিক মাছ খান। কিন্তু হাইপারথাইরয়েড থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়োডিন খাবেন না।
সঠিক শরীরচর্চা:
হাইপোথাইরয়েডের ক্ষেত্রে ওজন কমাতে কার্ডিও ব্যায়াম জরুরি। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডের ক্ষেত্রে পেশি গঠন বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত পানি ও প্রোটিন:
শরীরে মেটাবলিজম সচল রাখতে প্রচুর পানি পান করুন এবং ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখুন।
নিয়মিত চেকআপ:
নিজের ইচ্ছায় কখনোই থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না। প্রতি ৩-৬ মাস অন্তর রক্ত পরীক্ষা (TSH test) করিয়ে ওষুধের ডোজ ঠিক করে নিন।
থাইরয়েড আর ওজনের তারতম্য কেবল শারীরিক পরিবর্তন নয়, এটি আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ বিপাকীয় বিশৃঙ্খলার সংকেত। সঠিক ডায়েট ও হরমোন থেরাপির মাধ্যমে এই ওজনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।