শিরোপার ছবি আঁকছে দুই দলই

২৩ জানুয়ারী, ২০২৬

দুই দলের গল্প যেন দুই মেরুর। চট্টগ্রাম রয়ালসের বিপিএল শুরু হয়েছিল একরাশ অনিশ্চয়তা নিয়ে। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগের দিন সরে দাঁড়ায় মালিকপক্ষ। এরপর বাধ্য হয়েই দলটির মালিকানা নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

এখানেই শেষ নয়, দলে পর্যাপ্ত বিদেশি ক্রিকেটারও ছিল না। সব প্রতিবন্ধকতা দূরে সরিয়ে সেই দলই এখন চলতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অপেক্ষায়। আজ ফাইনালের বাধা পেরোতে পারলেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসবে শরিফুল ইসলাম ও শেখ মেহেদী হাসানদের জীবনে।

অথচ ফাইনালে চট্টগ্রামের প্রতিপক্ষ রাজশাহীর গল্পটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

 পরিকল্পনার এক নিদর্শন বলা যায় তাদের ফাইনালে ওঠাকে। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দলটি শুরু থেকেই সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। সেই পরিকল্পনাই এখন শিরোপা হয়ে ধরা দেওয়ার অপেক্ষায়। গতকাল ফাইনালপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহীর ক্রিকেটার আকবর আলীর কণ্ঠে একই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে, ‘যখন আমাদের দলটা সাজানো হয়েছিল, তখন ম্যানেজমেন্ট ও প্রত্যেক ক্রিকেটারের মধ্যে একটাই কথা হয়েছিল—আমরা চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য খেলব।

টুর্নামেন্ট শুরুর পর পরিকল্পনা ছিল ম্যাচ ধরে ধরে এগোনো। এখন যেহেতু ফাইনালে উঠে গেছি, দ্বিতীয় কোনো ভাবনার সুযোগ নেই। অবশ্যই আমরা ম্যাচটা জেতার জন্য খেলব।’

দলটির প্রধান কোচ হান্নান সরকারের কণ্ঠেও একই সুর। ট্রফি জেতার স্বপ্ন নিয়েই যে রাজশাহীর যাত্রা শুরু হয়েছিল সেটি জানিয়েছেন তিনি, ‘আমরা একটা স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম।

 এখন সেই যাত্রার একেবারে শেষ পর্যায়ে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়া, সেই ট্রফিটাই উঁচিয়ে ধরতে চাই।’

রাজশাহীর মতো একই তাড়না নিয়ে ফাইনালে নামার অপেক্ষায় চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহীকেই হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে তাঁর দল। শেখ মেহেদীর আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা তাই পরিষ্কার, ‘ফাইনালে উঠেছি, শিরোপার স্বপ্ন কেন দেখব না? সবাই দেখবে। তবে যারা আগামী ম্যাচে সব বিভাগে ভালো ক্রিকেট খেলবে, তারাই শিরোপা জিতবে। প্রত্যেক ক্রিকেটারের ভেতরেই সেই ক্ষুধা আছে।’

দুই দলের এই জমে ওঠা লড়াইয়ের সঙ্গে উইকেটও আলোচনার খোরাক। প্লে অফ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ ছিল লো-স্কোরিং। তবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী-সিলেট ম্যাচে রানের দেখা মিলেছে। ফাইনালেও ভালো উইকেটের প্রত্যাশা হান্নান সরকারের, ‘নতুন উইকেটে খেলা হবে। আশা করি, আগের ম্যাচের (দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার) মতো রান হবে। ঘাসও কম থাকবে। সবার জন্যই চ্যালেঞ্জ থাকবে, আর দর্শকরা যেন ম্যাচটা উপভোগ করতে পারে, সেটাই চাই।‘ একই রকম প্রত্যাশা শেখ মেহেদীরও। রোমাঞ্চকর একটি ফাইনালই চাওয়া তাঁর, ‘ফাইনাল খেলা আমার মনে হয় ফাইনালের মতোই হবে। বরাবর যেমন হয়ে আসছে। টুইস্ট থাকবে খেলায়, উত্তেজনা থাকবে। আমার মনে হয় যে খুব কঠিন লড়াইয়ের ক্রিকেট হবে আগামীকাল (আজ)।’

সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য একটি রোমাঞ্চকর ফাইনালের আশা করাই যায়।