অতিরিক্ত বিট খেলে শরীরে যা ঘটে

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অভিনেত্রী আলিয়া ভট্ট, করিনা কাপুরের মতো তারকারা তো বটেই, সাধারণ মানুষও এই হুজুগে গা ভাসিয়েছেন। পুষ্টিবিদরা বলছেন, বিটের রস এমনিতে উপকারী। বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে বিটে। এ ছাড়া বিটে ক্যালোরির পরিমাণও কম। তবে বেশি খেলেই বিপদ। কী কী সমস্যা হতে পারে বিট খেলে?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজত্ব চালাচ্ছে রক্ত রাঙা বিটরুট। কেউ সকালে উঠে খালি পেটে বিটের রস খাচ্ছেন, কেউবা মাখছেন মুখে। বিটের রস এমনি স্বাস্থ্যের জন্য জন্য উপকারি। এতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। বিটে ক্যালোরির পরিমাণও কম। 

তবে উপকারি এই সবজিটি বেশি খেলে বিপদও হতে পারে। অতিরিক্ত বিট খেলে কী কী সমস্যা হতে পারে? চলুন জেনে নিই-

১. ক্যানসার হতে পারে

বিটে ভরপুর পরিমাণে নাইট্রেট রয়েছে। এই উপাদানটি সাধারণত রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। কিন্তু এই নাইট্রেটের একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। অতিরিক্ত পরিমাণে এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করলে তা পাকস্থলীর মধ্যে থাকা অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই যৌগটির সঙ্গে ক্যানসারের যোগ থাকলেও থাকতে পারে।

২. কিডনিতে পাথর জমার আশঙ্কা থাকে

যেসব সবজিতে অক্সালেটের পরিমাণ বেশি, সেগুলো ক্যালসিয়ামের সঙ্গে সহজেই জোট বেঁধে ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল তৈরি করে ফেলতে পারে। পরবর্তীতে এই ক্রিস্টালগুলো কিডনিতে পাথরের আকারে জমতে শুরু করে। বিটেও অক্সালেটের পরিমাণ বেশি। তাই অতিরিক্ত বিট খেলে কিডনিতে স্টোন হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

৩. রক্তচাপ কমে যেতে পারে

বিটের মধ্যে থাকা নাইট্রেট নামক উপাদানটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং ব্লাড ভেসেলের যত্ন নিতেও সাহায্য করে। কিন্তু যাদের রক্তচাপ এমনিতেই কম, তারা অতিরিক্ত বিট না খাওয়াই উত্তম। নয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে।

৪. খাবার হজমে সমস্যা

অতিরিক্ত বিট খেলে পেটের গোলামাল দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু বিটে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি, তাই এটি খেলে হজম সংক্রান্ত সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। গ্যাস, অম্বল, পেটফাঁপার মতো সমস্যা থাকলে বিট এড়িয়ে চলাই ভালো।

৫. হঠাৎ সুগার বেড়ে যেতে পারে

বিটের স্বাদ মিষ্টি। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে বিট খাওয়া ডায়াবেটিকদের জন্য ভালো নয়। পুষ্টিবিদরা বলছেন, বিট যদি সবজি হিসেবে খেতে পারেন, তাহলে খুব একটা সমস্যা হবে না। কারণ, এই সবজিটির মধ্যে থাকা ফাইবার রক্তে থাকা শর্করা শোষণে বাধা দেয়। কিন্তু বিটের রসে ফাইবার থাকে না। তাই রস খেলে হবে না।