বগুড়ায় ৭২ ঘণ্টায় তিন খুন, এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বগুড়ায় মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে তিনটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও একটি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অথচ এসব ঘটনার পর এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ী পূর্বপাড়া এলাকায় নিজবাড়ির অদূরেই পাওয়া যায় পরিবহন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের গলা কাটা মরদেহ।

বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছেও তিনি আর ঘরে ফিরতে পারেননি।

সাইফুলের মেয়ে সাদিয়া আক্তার কান্নাসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাড়ি ফিরবেন, আমরা সেই অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু বাবা ফিরলেন লাশ হয়ে।’

প্রতিবেশীদের ভাষ্য মতে, শান্ত স্বভাবের সাইফুলের সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল বলে তাদের জানা নেই।

কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো, সেই রহস্য এখনো বোঝা যাচ্ছে না।

 

এর আগে গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) শহরের মাটিডালী এলাকায় এক ছাত্রদল নেতাকে প্রাণ দিতে হয়েছে পারিবারিক বিরোধের জেরে। বোনকে বিয়ে না দেওয়ার জেরে ছুরিকাঘাতে খুন হন ফাহিম হাসান। অন্যদিকে, নিশিন্দারা এলাকায় বাবার গ্যারেজ থেকেই উদ্ধার করা হয় ১৬ বছর বয়সী কিশোর আলিফের রক্তাক্ত দেহ।

খুন ছাড়াও গত কয়েক দিনে জেলাটিতে বেড়েছে সন্ত্রাসী হামলা। সেউজগাড়ী এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় সুনীল নামের এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই হামলার প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ।

এদিকে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শহরের সাতমাথায় বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।

নিহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবিলম্বে সব খুনিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

সরকারি আজিজুল হক কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং শাস্তির নিশ্চয়তার অভাবেই এমন অপরাধ বাড়ছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা গেলে এসব ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।’

বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন আশ্বস্ত করে জানান, প্রতিটি ঘটনার পেছনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্তে অগ্রগতি আছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।