১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রবল বন্যা ও দমকা হাওয়ার ফলে সাইক্লোন গেজানিতে মাদাগাস্কারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে পৌঁছেছে এবং আরো এক ডজনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সোমবার জানিয়েছে।সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলবর্তী এই দ্বীপদেশটি একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমবর্ধমান চরম আবহাওয়ার ঝুঁকির প্রতি এর দুর্বলতাকে তুলে ধরছে।
১০ ফেব্রুয়ারি মাদাগাস্কারে আঘাত হানা এই ঘূর্ণিঝড়ে সারা দেশে অন্তত ৫৯ জন নিহত হয়েছে বলে ন্যাশনাল অফিস ফর রিস্ক অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (বিএনআরজিসি) জানিয়েছে। এ ছাড়া ঝড়ের পানিতে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ৪৩ জন বলা হয়েছিল।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে পূর্ব উপকূলের বন্দরনগরী তোয়ামাসিনায়, যা পূর্বে তামাতাভ নামে পরিচিত ছিল। প্রায় চার লাখ বাসিন্দা নিয়ে এটি মাদাগাস্কারের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরকেন্দ্র।
বিএনআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার প্রায় এক সপ্তাহ পরও আরো ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে।
গত সপ্তাহে ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার (১৬০ মাইল) বেগের বাতাস নিয়ে গেজানি উপকূলে আঘাত হানে, যার পর সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি শুক্রবার সতর্ক করে জানায়, ‘ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা অভিভূত করার মতো,’ এবং শহরটি মাত্র প্রায় পাঁচ শতাংশ বিদ্যুৎ নিয়ে চলছে, পাশাপাশি পানি সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।
অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য চীন ও ফ্রান্স সহায়তা পাঠিয়েছে।
পোপ লিও চতুর্দশ রবিবার ‘অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত মাদাগাস্কারের জনগণের’ প্রতি সমবেদনা ও প্রার্থনা জানান।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে মাদাগাস্কারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ফাইটিয়া আঘাত হানে, যাতে অন্তত সাতজন নিহত হয় এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।