০১ মার্চ, ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে আঞ্চলিক মহাসড়কে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা লরির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে বিকাশকর্মী শাহরিয়া রাজুর (২৮) মৃত্যু হয়েছে। পাশের জেলা চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবে মেঘনা নদীর তীরে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করে লক্ষ্মীপুরে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের সর্দার বাড়ি এলাকায় লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রাজু সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের আদিলপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।
তিনি বিকাশের রায়পুর শাখায় চাকরি করতেন।
জানা গেছে, রাজু নিয়মিত রক্তদান দানসহ সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। তার এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাজু ও কয়েকজন বন্ধু শনিবার বিকেলে চাঁদপুরের চরভৈরব লঞ্চঘাট এলাকায় ইফতার করতে যায়।
সেখান থেকে ফেরার পথে ঘটনাস্থলে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরিতে এসে তার মোটরসাইকেলটি ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলটি লরির নিচে ঢুকে যায়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক রাজু গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা লরিটি সরকারি কাজে নিয়োজিত ছিল বলে জানায় স্থানীয়রা।
কোনো ধরনের সতর্কবার্তা বা চিহ্ন ছাড়াই অন্ধকারে সড়কের ওপর লড়িটি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
রাজুর বন্ধু কাজী মোহাম্মদ শামীম বলেন, রাজু তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে চাঁদপুরের চরভৈরবীতে গিয়ে নদীর পাড়ে ইফতার করে। সেখান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় আমার বন্ধু মারা গেছেন। তিনি বিকাশের রায়পুর শাখায় চাকরি করতেন। তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নিহতের আরেক বন্ধু মাসুদুর রহমান রাজু ফেসবুকে ছবি দিয়ে পোস্টে লেখেন, জীবনের শেষ ইফতার করে গেলি বন্ধু। আর দেখা হলো না তোর সঙ্গে৷ আল্লাহ তোকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুক।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিকল হয়ে যাওয়ায় লরিটি সড়কের দাঁড় করা ছিল। বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত করাবে না বলে পরিবার জানিয়েছে।