০৬ মার্চ, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জামপুর ইউনিয়নে এক জামাতার নেতৃত্বে শ্বশুরবাড়িতে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সালেহা বেগম (৪০) এ ঘটনার বর্ণনা দেন এবং বিচার দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে সালেহা বেগম বলেন, তার মেয়ে খুকি বেগমের স্বামী জয়নাল একজন মাদকাসক্ত। প্রায় এক বছর আগে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে জয়নালকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি জয়নাল সেই মোটরসাইকেলটি ৬০ হাজার টাকায় স্থানীয় একজনের কাছে বন্ধক রাখেন। গতকাল ৫ মার্চ বিকেলে তালতলা বাজারে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে জয়নাল তার স্ত্রী খুকি ও শ্যালক আব্দুল মোতালিবকে মারধর করে আহত করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘটনার জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জয়নাল ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সালেহা বেগমের ছোট ভাই সেলিমের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় দুর্বৃত্তরা রামদা দিয়ে সেলিমকে হত্যার চেষ্টা করলে তিনি গুরুতর জখম হয়েছেন। এ সময় সেলিমের মুদি দোকান থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয়।
পরে রাত ১০টার দিকে সন্ত্রাসীরা সালেহা বেগমের নিজস্ব বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। তারা সালেহা বেগম, তার মেয়ে খুকি এবং নাতনি জুই মনিকে (১৪) এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এসময় ঘর থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণালংকার, এলইডি টিভি, এসি, ল্যাপটপসহ কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
সালেহা বেগম বলেন, ‘লুটপাট শেষে জয়নাল ও শফিকুল পেট্রোল ঢেলে আমাদের একতলা বসত বিল্ডিংয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আসবাবপত্রসহ পুরো ঘর পুড়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমাদের চিৎকার শুনে লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের খুন করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।’
ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল্লাহ বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।