যেভাবে শিশুদের নামাজ ও রোজায় অভ্যস্ত করবেন

০৭ মার্চ, ২০২৬

রমজান আমাদের ঘরে আসে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে। এই মাস শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের ইবাদতের মৌসুম নয়, এটি শিশুদের হৃদয়ে ঈমানের প্রথম বীজ বপনেরও সুবর্ণ সময়। আজ যে শিশু মায়ের হাত ধরে সাহরিতে জাগে, বাবার পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার চেষ্টা করে, কাল সেই হবে দ্বিনের দায়িত্বশীল বাহক। তাই শিশুদের রোজা ও নামাজে অভ্যস্ত করানো কোনো চাপের বিষয় নয়; এটি ভালোবাসা, প্রেরণা ও ধৈর্যের এক সুকৌশলী যাত্রা।

প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) শিশুদের প্রতি ছিলেন অপরিসীম স্নেহশীল। তিনি শাসনের চেয়ে ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষা দিতেন। শিশুদের ভুল হলে ধৈর্য ধরতেন, উৎসাহ দিতেন, তাদের মনোবল ভেঙে দিতেন না। এ শিক্ষাই উম্মতের জন্য অনুসরণীয়।

শিশুদের ইবাদতে অভ্যস্ত করাতে হলে প্রথমে তাদের হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসা জাগ্রত করতে হবে। 

শিশুদের রোজায় অভ্যস্ত করার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া জরুরি। অল্প বয়সে পূর্ণ রোজা বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু অর্ধদিবস রোজা বা কয়েক ঘণ্টা রোজা রাখার মতো অনুশীলন তাদের আগ্রহ বাড়ায়। সাহরিতে ঘুম জড়ানো চোখে যখন তারা পরিবারের সঙ্গে টেবিলে বসে, তখন তাদের মনে জন্ম নেয় গর্ব ‘আমিও রোজাদার’।

আর ইফতারের সময় তাদের জন্য ছোট উপহার বা আন্তরিক প্রশংসা এই আনন্দকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

নামাজের ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রযোজ্য। ছোটদের জোর করে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখলে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, বরং সংক্ষিপ্ত সময়, সহজ সুরা, আর পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ—এসব তাদের মনে নামাজের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে। মাঝে মাঝে বাবা যদি বলেন, ‘আজ তুমি আমার ইমাম হও’ তাহলে শিশুর হৃদয়ে আত্মবিশ্বাসের এক নতুন আলো জ্বলে ওঠে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশুরা অনুকরণপ্রিয়।

তারা আমাদের কথা কম, কাজ বেশি দেখে। বাবা-মা যদি নিয়মিত নামাজ আদায় করেন, কোরআন তিলাওয়াত করেন, ইফতারে সংযমী থাকেন, তবে শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই তা অনুসরণ করবে। ঘরে যদি রমজানের আবহ থাকে, কোরআনের সুর, দোয়ার মৃদু ধ্বনি, ইফতারের আগে নীরবতা, তাহলে শিশুর হৃদয়ে এই মাসের বিশেষত্ব গেঁথে যাবে আজীবনের জন্য।

রমজান হলো আত্মগঠনের বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে আমরা যদি শিশুদের স্নেহ, প্রেরণা ও উদাহরণ দিয়ে পথ দেখাই, তবে তারা ইবাদতকে বোঝা মনে করবে না; বরং ভালোবাসার দায়িত্ব মনে করবে। আজকের ছোট্ট রোজাদার, নামাজের কাতারে দাঁড়ানো সেই নিষ্পাপ মুখগুলোই আগামী দিনের আলোকিত সমাজ গড়বে।

আসুন, আমরা তাদের নিরুৎসাহ না করে আলতো হাতে এগিয়ে দিই। রোজা ও নামাজকে শৈশবের সুন্দর স্মৃতি বানিয়ে দিই। তাহলেই ইবাদত তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে, ভয় থেকে নয়, ভালোবাসা থেকে।