০২ এপ্রিল, ২০২৬
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হলো বিয়ে, যা শুধু একটি সামাজিক বন্ধনই নয়, বরং ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতও বটে। কিন্তু নানা কারণে অনেকের বিয়ে দেরিতে হয়, যা নিয়ে মনে অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।
এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা, ধৈর্য ধারণ করা এবং আন্তরিকভাবে দোয়া করা একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে উত্তম পথ। কারণ আল্লাহ তাআলাই জানেন কখন, কীভাবে এবং কার জন্য কোনটি সবচেয়ে কল্যাণকর।
দ্রুত বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক দোয়া না থাকলেও কোরআনে বর্ণিত কিছু দোয়া রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত পড়লে আল্লাহ তাআলা উত্তম ব্যবস্থা করে দেন। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো—
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।
অর্থ: “হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবেন, আমি তারই মুখাপেক্ষী।”
এ ছাড়া যেকোনো কঠিন কাজ সহজ করার জন্য পড়া যায়—
اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জা‘আলতাহু সাহলা।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি যা সহজ করেন, তা ছাড়া কিছুই সহজ নয়।”
একই সঙ্গে কোরআনের আরেকটি সুন্দর দোয়া রয়েছে—
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিন, ওয়াজ‘আলনা লিলমুত্তাকিনা ইমামা।
অর্থ: “হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের স্ত্রী-সন্তানদের আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের নেতা বানান।”
এসব দোয়ার পাশাপাশি নিয়মিত নামাজ আদায়, তাহাজ্জুদ পড়া, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা এবং দরুদ শরীফ পাঠ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো মানুষের জীবনে বরকত আনে এবং আল্লাহর রহমত লাভে সহায়তা করে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, বিয়ে আল্লাহর নির্ধারিত সময়েই হয়। তাই অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধরে দোয়া করতে হবে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম সময়ে উত্তম ব্যবস্থা করে দেবেন।