১০ এপ্রিল, ২০২৬
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চৈত্র সংক্রান্তি ও নীল পূজাকে কেন্দ্র করে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার গ্রামগঞ্জজুড়ে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্নধর্মী লোকজ আয়োজন, যেখানে দেবদেবীর সাজে সজ্জিত হয়ে ধর্মাবলম্বীরা দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাড়ি বাড়ি ও হাটবাজারে।
ঢাক, কাঁসি ও করতালের তালে মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। কারও মুখে নীল রঙ, কারও মাথায় জটাজুট, হাতে ত্রিশূল- শৈল্পিকভাবে ফুটে উঠছে দেবদেবীর প্রতীকী রূপ। বিশেষ করে লাল শাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী অলংকারে সজ্জিত চরিত্রগুলো পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। শুধু বিনোদন নয়, এ আয়োজন বহন করছে গ্রামীণ বাংলার শতবর্ষী লোকসংস্কৃতির ধারা। পথচারীরা থেমে আগ্রহভরে এই দৃশ্য উপভোগ করছেন, কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, আবার কেউ শিল্পীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন সামান্য সম্মানী।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, আবহমানকাল ধরে চৈত্র মাসের শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তি পালন করা হয়ে আসছে। এটি কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চৈত্র সংক্রান্তির আগে-পরে নীল পূজা গ্রামীণ জীবনে নিয়ে আসে বিশেষ আনন্দ। অনেকের বিশ্বাস, এসব আচার-অনুষ্ঠান অশুভ শক্তি দূর করে নতুন বছরের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।
আয়োজকরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও শিবের সাজে সজ্জিত বহুরূপীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা নীল পূজার অন্যতম আকর্ষণ। এ আয়োজন শুধু ধর্মীয় নয়, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ। নীল দলের সদস্য নিঠুর হাওলাদার বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে নীল উৎসব উদযাপন করছেন। নেচে-গেয়ে সংগৃহীত অর্থ চৈত্র সংক্রান্তির দিন নীল পূজার কাজে ব্যয় করা হবে।
স্থানীয় গৃহবধূ গীতা রানী জানান, নীলের দল বাড়িতে এলে ধূপ জ্বালিয়ে ভক্তিভরে পূজা করেন এবং মহোৎসবের জন্য চাল-ডাল দিয়ে সহযোগিতা করেন। প্রতিবছরই তারা এভাবে অংশ নেন।
কলাপাড়া শ্রী শ্রী মদন মোহন সেবাশ্রমের পুরোহিত নির্মল চক্রবর্তী বলেন, চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা উপবাস থাকেন এবং সন্ধ্যায় মহাদেবের পূজা করেন। মহাদেবের আরেক নাম ‘নীল’, এই বিশ্বাস থেকেই নীল পূজার আয়োজন করা হয়।