২৩ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকা শহরের একেক এলাকায় একেক রকম তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে, কোথাও তুলনামূলক স্বস্তি থাকলেও কোথাও গরম অসহনীয় হয়ে উঠছে। একই শহরের ভেতরেই তাপমাত্রার পার্থক্য ৫ ডিগ্রিরও বেশি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবুজে ঘেরা বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা এলাকায় তুলনামূলক ঠান্ডা পরিবেশ থাকলেও মাত্র দুই কিলোমিটার দূরের মিরপুর ২ এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি বেশি। এই পার্থক্য ঢাকার অন্যান্য এলাকাতেও স্পষ্ট।
গবেষণা সংস্থা ক্যাপসের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে গড়ে ৪ ডিগ্রি এবং উত্তর সিটিতে ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা বেড়েছে। গাছপালা ও জলাশয় দখল করে অপরিকল্পিত নগরায়নকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মধ্যে বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে মতিঝিল, তেজগাঁও এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পাওয়া গেছে।
এই দুই এলাকার মধ্যে পার্থক্য ৫ ডিগ্রিরও বেশি।
উত্তরার পঞ্চবটি, চিড়িয়াখানা, রমনা, সংসদ ভবন এলাকায় গাছপালা ও জলাশয় থাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম। বিপরীতে মিরপুর ২, ১০, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, মতিঝিল এলাকায় গাছপালা কম থাকায় তাপমাত্রা বেশি। শিল্পকারখানা, এসির ব্যবহার, বহুতল ভবন, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো স্থাপনার কারণেও তাপমাত্রা বাড়ছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। খেটে খাওয়া মানুষ ও কর্মজীবীদের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে, বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি। সাধারণ মানুষ বলছেন, অতিরিক্ত গরমে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তারা নদী রক্ষা, গাছ কাটায় নিয়ন্ত্রণ এবং বেশি করে বৃক্ষরোপণের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, গাছপালা ও জলাশয় রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ঢাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে।
নগর পরিকল্পনাবিদ আদিলুর রহমান খান বলেন, একটি শহরে অন্তত ২৫ শতাংশ সবুজ এবং ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জলাশয় থাকা প্রয়োজন। এতে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে এবং আরবান হিট আইল্যান্ডের প্রভাব কমে।
ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, দিন রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য এবং সবুজ কমে যাওয়া মরুকরণের লক্ষণ। এই সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা ছাদবাগান, সড়কের পাশে গাছ লাগানো, জলাভূমি রক্ষা এবং ভবনের রঙ পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, শহরের প্রতিটি ছাদে বাগান তৈরি করা গেলে একটি সবুজ ছাতা তৈরি হবে, যা তাপমাত্রা কমাতে সহায়ক হবে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ঢাকার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে। তখন রাজধানী কার্যত বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।