ঘুষি কাণ্ডে ঐতিহাসিক শাস্তির মুখে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক

২৭ এপ্রিল, ২০২৬

স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবলে এক অবিশ্বাস্য এবং নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। রিয়াল সারাগোসার আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদা অ্যাভানমেন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আরাগন ডার্বিতে হুয়েস্কার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পরপরই প্রতিপক্ষ অধিনায়ক হোর্হে পুলিদোর মুখে সজোরে ঘুষি মেরে বসেন। এই ঘটনায় মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় ধরনের হাতাহাতি শুরু হয়। এটিকে স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন অনেক সবেকরা।

গতকাল এল আলকোরাজ স্টেডিয়ামে হুয়েস্কা বনাম রিয়াল সারাগোসার ম্যাচ চলছিল। ম্যাচের শেষ দিকে, অতিরিক্ত সময়ের প্রায় ৯৯ মিনিটে, সারাগোসা ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। আন্দ্রাদা, যিনি আগেই একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন, পুলিদোকে ধাক্কা দেন। রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে লাল কার্ড বের করেন।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। লাল কার্ড দেখার পর আন্দ্রাদা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তিনি দৌড়ে গিয়ে হুয়েস্কার অধিনায়ক পুলিদোর মুখে শক্তিশালী ডান হাতের ঘুষি মারেন। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে পুলিদোর মুখ ফুলে যায় এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়, স্টাফ ও সাবস্টিটিউটদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়। হুয়েস্কার গোলরক্ষক দানি জিমেনেজও আন্দ্রাদাকে ঘুষি মারার দায়ে লাল কার্ড দেখেন। সারাগোসার আরেক খেলোয়াড় দানি তাসেন্দেও বহিষ্কৃত হন।

আন্দ্রাদা ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দলকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে আবেগের বশে এমন কাজ করে বসেন যা পুরো ম্যাচের আলোচনা ছাপিয়ে গেছে।

ঘটনার পর রিয়াল সারাগোসা ক্লাবের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। অধিনায়ক ফ্রাঞ্চো সেরানো বলেন, “আমরা এ ধরনের আচরণ সমর্থন করি না। যা ঘটেছে তাতে আমরা লজ্জিত।” কোচ ডেভিড নাভারোও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আন্দ্রাদা নিজেও জনরোষের মুখে পড়ে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, “যা হয়েছে তার জন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। এটি ক্লাবের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমনটা করা উচিত হয়নি। মুহূর্তের উত্তেজনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। এর আগে কখনো এমন উগ্র আচরণ করিনি।”

স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে খুব গুরুতরভাবে নিয়েছে। আন্দ্রাদা দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা, বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং সম্ভবত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা হারাতে পারেন। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, তাকে ৬ থেকে ১৫ ম্যাচ বা তারও বেশি সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। ক্লাবও তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।