২৭ এপ্রিল, ২০২৬
২০৩০ সালে আহমেদাবাদে কমনওয়েলথ গেমসের শতবর্ষী উৎসবের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। অলিম্পিক আর এশিয়ান গেমসের বিডও চলছে। কিন্তু এই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ছবির পেছনে লুকিয়ে আছে একটা অস্বস্তিকর সত্য, ১৬ বছর আগের দিল্লি গেমসের দেনা এখনও পুরোপুরি মেটেনি। পুরোনো কেলেঙ্কারি আর আর্থিক জটিলতার বোঝা এখনও টেনে চলেছে ভারত সরকার।
অর্থাৎ, ভারত যখন নতুন করে বড় বড় ক্রীড়া আয়োজনের স্বপ্ন দেখছে, তখনই ২০১০ সালের সেই বিতর্কিত গেমসের বকেয়া টাকা এখনও শোধ করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় সরকারকে ২৮.০৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় টেলিকম সংস্থা এমটিএনএলকে দেওয়া হয়েছে ২৮ কোটির বেশি টাকা।
তথ্য অধিকার আইনে (আরটিআই) পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এখনও ২৯টি মামলা বিভিন্ন আদালতে চলছে। এর মধ্যে ২৪টিতে সরকার সরাসরি পক্ষ। এসব মামলার কারণে দেনার সঠিক পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।
সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাকি দায় মেটাতে আরও ৫০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। শুধু আইনজীবী ও সালিসি ফি বাবদই সরকার খরচ করেছে প্রায় ১৩ কোটি টাকার বেশি।
২০১০ সালের দিল্লি গেমসকে তখন ‘কেলেঙ্কারির গেমস’ বলা হতো। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল মাত্র ২৯৭ কোটি টাকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮,৫৩২ কোটি টাকায়। ঠিকাদারদের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া, নিম্নমানের অবকাঠামো, নির্মাণ বিলম্ব সব মিলিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। আয়োজক কমিটির তৎকালীন চেয়ারম্যান সুরেশ কালামাডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
এখন ২০৩০ সালের গেমসের জন্য আহমেদাবাদ প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু পুরোনো দেনা আর মামলার বোঝা নিয়ে নতুন করে বড় আয়োজন করতে গেলে কতটা চাপ পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।