০১ মে, ২০২৬
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৭টি গ্রামের পাঁচ শতাধিক একর জমির ধান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে উপজেলার বহুরিয়া ও ভাওড়া ইউনিয়নে ৪ শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে সমবেত হয়ে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য চান মিয়া সিকদার গোপাল ও সমাজ সেবক মঞ্জুর আলম প্রমুখ। পরে ইউএনও খান সালমান হাবিব তার কার্যালয় থেকে নিচে নেমে কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন। এছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা গ্রামে হাদী, আরইউবি, সান, বহুরিয়া ইউনিয়নে কোর্টবহুরিয়া গ্রামে এমএসটি ও এফবিসি নামে ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটায় গত কয়েক দিন আগে চলতি মৌসুমের আগুন বন্ধ করা হলে ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কোটবহুরিয়া, মন্দিরাপাড়া, বুধিরপাড়া, পাহাড়পুর, বহুরিয়া চরপাড়া, কেশবপুর ও সরিষাদাইড় গ্রামের পাঁচশতাধিক একর জমির ধান পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, এসব ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৭ গ্রামের সহস্রাধিক একর জমির ধান পুড়ে গেছে।
বুধিরপাড়া গ্রামের কৃষক ইদ্রিস মিয়া, কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের দরবেশ বলেন, ‘তিন বছর ধরে ঘরের ধানের ভাত খেতে পারি না। ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় সব শেষ হয়ে যায়। এবারও একই অবস্থা হওয়ায় চিন্তায় আছি।’
কৃষক মান্না সিকদার, আব্দুল মুন্নাফ, ইন্নছ আলী, আহম্মদ আলী. আবুল হোসেন বলেন, আমরা ক্ষতিপূরণ চাই না। সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। প্রতি বছর ধান পুড়ে যাবে, আর তারা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেবে, তা হতে পারে না।
হাদী ইটভাটার মালিক স্বপন মিয়া, আরইউবি ইটভাটার মালিক ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘যদি আমাদের ইটভাটার কারণে ধানের ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন বলেন, সরেজমিন তদন্তের পর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবিব বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে দোষী ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।