গোপন সফরে আফ্রিকায় তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট, ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিল চীন

০৩ মে, ২০২৬

গোপনে আফ্রিকার ছোট্ট দেশ এসওয়াতিনি (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড) সফরে গেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে।সেখানে পৌঁছে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, তাইওয়ান বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অধিকার রাখে এবং কোনও দেশই তা বাধাগ্রস্ত করতে পারে না।

এসওয়াতিনির রাজা তৃতীয় এমসোয়াতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই মন্তব্য করেন তিনি।

তার এই সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন।

একই সঙ্গে গোপনে সফর করায় তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-কে ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিয়েছে বেইজিং, যা নতুন করে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

তাইওয়ান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট লাই শনিবার আকস্মিকভাবে এসওয়াতিনিতে পৌঁছান। সফরটি আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সফরে তিনি একটি এসওয়াতিনি সরকারি বিমান ব্যবহার করেন।

তাইওয়ানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের ‘গোপনে পৌঁছে পরে ঘোষণা’র মতো কূটনৈতিক কৌশল সাধারণত উচ্চপর্যায়ের সফরে ব্যবহার করা হয়, যাতে বাইরের হস্তক্ষেপের ঝুঁকি কমে।

চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া

চীনের তাইওয়ান বিষয়ক অফিস এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের সফরকে ‘গোপনে পলায়ন’ আখ্যা দিয়ে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “লাই চিং-তের আচরণ এমন, যেন রাস্তা দিয়ে ছুটে যাওয়া একটি ইঁদুর- যা আন্তর্জাতিক মহলে উপহাসের জন্ম দেবে। ”

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং দ্বীপটির সঙ্গে যেকোনও রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের বিরোধিতা করে।

তাইওয়ানের পাল্টা জবাব

তাইওয়ানের নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল’ চীনের বক্তব্যকে ‘অশোভন ও নিম্নমানের ভাষা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি জানায়, প্রেসিডেন্ট লাইয়ের কোনও বিদেশ সফরের জন্য বেইজিংয়ের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তাইওয়ান সরকারের মতে, চীন বারবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্বীপটির কূটনৈতিক পরিসর সংকুচিত করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

তাইওয়ানের সীমিত কূটনৈতিক সম্পর্ক

বর্তমানে তাইওয়ান মাত্র ১২টি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যার একটি হলো এসওয়াতিনি (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড)। এই সম্পর্ককে তাইওয়ানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।

এর আগে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের নির্ধারিত সফরে বিমান চলাচলের অনুমতি নিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি চীনের ভূমিকার সমালোচনা করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল যে, তাইওয়ান প্রশ্নে চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।