০৩ মে, ২০২৬
এবার প্রতিবেশী দেশ সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডান। সীমান্তজুড়ে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে এই সামরিক পদক্ষেপের পথে হাঁটল দেশটি।
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সন্দেহভাজন ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা নতুন করে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার ভোরে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানকারীদের ব্যবহৃত ঘাঁটিতে তারা হামলা চালিয়েছে বলে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা পেট্রা এ তথ্য জানিয়েছে।
সেনাবাহিনী জানায়, এই অভিযানে এমন স্থাপনা ও গুদামঘর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যেগুলো জর্ডানে চোরাচালান কার্যক্রমের সূচনা পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব স্থাপনা চিহ্নিত করা হয় এবং নির্ভুল হামলায় ধ্বংস করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে চোরাচালানের চেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জর্ডানের সেনাবাহিনী।
তাদের মতে, দেশের ভেতরে মাদক ও অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে সিরিয়ার আল-ইখবারিয়া টিভি বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সুয়াইদা প্রদেশের শাহবা গ্রামে একটি স্থাপনায় জর্ডানের যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। স্থাপনাটিতে অস্ত্র ও মাদক মজুত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের একটি সাবেক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা শাখা অবকাঠামোর কাছাকাছি এলাকা লক্ষ্য করেও হামলা করা হয়।
সেখানে ড্রোনের তৎপরতা এবং অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও দেখা গেছে।
মূলত গত কয়েক বছরে সিরিয়ার সঙ্গে উত্তর সীমান্তজুড়ে মাদক পাচার নেটওয়ার্ক দমনে জর্ডান এ ধরনের একাধিক হামলা চালিয়েছে। তবে সর্বশেষ এই হামলার সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৪ সালের শেষ দিকে ২৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। আর তারপর থেকে সিরিয়ার নতুন প্রশাসন দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
মূলত ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আসাদ রাশিয়ায় পালিয়ে যান।
আর এর মাধ্যমে ১৯৬৩ সাল থেকে চলা বাথ পার্টির শাসনের অবসান ঘটে। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারার নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। আর এই সরকারই সিরিয়াকে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা থেকে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।