২০৮-৭৯ ব্যবধানে জয়ী বিজেপি, নবান্ন ছাড়ছেন মমতা

০৫ মে, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৮টিতে বিশাল জয় পেয়ে সরকার গঠন নিশ্চিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। 

এই ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের টানা প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটল। বিপরীতে, তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৭৯টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে কংগ্রেস ২টিতে এবং সিপিএম ১টি আসনে জয় পেয়েছে, আর অন্যান্যরা পেয়েছে ৩টি আসন। 

তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ভোট বাতিল ঘোষণা করেছে; সেখানে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন এবং ২৪ মে ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক ছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়। 

তিনি নিজের ঘরের মাঠ ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম আসনেও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। ফলে রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনেই জয় ছিনিয়ে নিলেন শুভেন্দু। ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট গণনার শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথম কয়েক রাউন্ডে মমতা ও শুভেন্দুর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে। পঞ্চদশ রাউন্ড পর্যন্ত মমতা এগিয়ে থাকলেও ষোড়শ রাউন্ড থেকে পাশা উল্টে যেতে শুরু করে। 

শেষ পর্যন্ত ব্যবধান বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য যে, ফল ঘোষণার আগে থেকেই শুভেন্দু দাবি করে আসছিলেন যে কিছু নির্দিষ্ট বুথে পিছিয়ে থাকলেও শেষ রাউন্ডগুলোতে তিনি ঘুরে দাঁড়াবেন এবং বাস্তবেও তার সেই পূর্বাভাসের প্রতিফলন দেখা গেছে। 

জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু। 

অন্যদিকে, পরাজয় মেনে নিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, তাকে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে এবং তিনি আবারও জনগণের সমর্থনে রাজনীতিতে ফিরে আসবেন। 

২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ে এই পরাজয় এক নতুন মোড় নিয়ে এল। নবান্ন থেকে বিদায় নিচ্ছেন তিনি, আর পশ্চিমবঙ্গ সাক্ষী হচ্ছে এক বিশাল রাজনৈতিক পালাবদলের।