০৬ মে, ২০২৬
ঢাকার ধামরাই উপজেলায় ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও তাপের কারণে প্রায় ২৫ একর জমির বোরো ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় উপজেলার আমতা ইউনিয়নের অন্তত ৫টি গ্রামের শতাধিক প্রান্তিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, নিয়ম না মেনে ভাটার গ্যাস ছাড়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অবিলম্বে ইটভাটা মালিকদের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অনেকেই ঋণ নিয়ে কিংবা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। এই ফসল থেকেই তাদের সারা বছরের খাদ্যশস্যের জোগান আসার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন ক্ষতিতে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতা ইউনিয়নের নান্দেশ্বরী এলাকায় তিন ফসলি জমির পাশেই গড়ে উঠেছে আলিফ ব্রিকস, টাইগার ব্রিকস। এসব ভাটার আগুনের তীব্র তাপ ও ধোঁয়ার প্রভাবে পাশের কৃষিজমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে উপজেলার আমতা ইউনিয়নের বাউখন্ড, নান্দেশ্বরী, চালা, নারায়ণপুর ও ভবনহাটি গ্রাম উল্লেখযোগ্য। কৃষকদের দাবি, ইটভাটাগুলোর কারণে নিয়মিতভাবেই তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুল মান্নান মিয়া জানান, আমি ৭০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছি। টাকা পয়সা খরচ করে ধান লাগালাম। এখন ইটভাটার ধোঁয়ায় আমাদের সবার ধানই পুড়ে নষ্ট হয়ে গেলো। এই ধানই আমরা সারা বছর পরিবার নিয়ে খেয়ে থাকি। এখন আমরা খাবো কী? পরিবারকে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। আমরা এর বিচার চাই, আমাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ চাই।
কৃষক খলিল বলেন, ১০০ শতাংশ জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। কিস্তি তুলে সার কিনেছিলাম, ফলন আসতে শুরু হয়েছিল। আর আজকে জমিতে এসে দেখি আমার সব ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এটা দেখে আমার এখন বাঁচার উপায় নাই। এই ধান বিক্রি করেই ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিয়ে থাকি।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ইটভাটার কারণেই ধানের এ ক্ষতি হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি বিষয়টি। অতিদ্রুতই কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, আমাদের কৃষি অফিসার তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জেনো যথাযথ ক্ষতিপূরণ পান, সেই লক্ষে ইটভাটার মালিক ও কৃষকদের সাথে বসে যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, ধামরাইয়ে প্রতি বছরই ইটভাটার কারণে কৃষিজমির ক্ষতির অভিযোগ উঠে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ক্ষতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।