০৬ মে, ২০২৬
কক্সবাজার জেলার সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবার সরকারি প্রতিষ্ঠান সদর হাসপাতাল। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে হামের প্রকোপ বাড়ার পর চালু করা হয় বিশেষ ওয়ার্ড ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড’। ২০ বেডের সেই ওয়ার্ডে মঙ্গলবার (৫ মে) ৭৫ শিশুর ভর্তি থাকার তথ্য মিলেছে।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, এক-একটি বেডে দুই থেকে চার শিশুকে শুইয়ে রেখে চলছে চিকিৎসা সেবা। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই বিশেষ ওয়ার্ডটি প্রবেশে নানা কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের ‘লিখিত’ অনুমতি ছাড়া ফুটেজ বা ছবি নেয়া যাবে না। একই সঙ্গে বিস্তারিত তথ্য জানাতেও আগ্রহী নন তারা।
বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৭৫ শিশুসহ জেলার মোট ৭ টি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১৪১ শিশু।
অন্য হাসপাতালের মধ্যে চকরিয়ায় ১০, পেকুয়ায় ছয়, উখিয়ায় ১৮, টেকনাফে ১১, রামুতে ছয় এবং মহেশখালীতে ১৫ শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬০ শিশু উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ৬৬ শিশুকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া তথ্য মতে, গত ২৯ মার্চ থেকে এই পর্যন্ত ১ মাস ৭ দিনে জেলায় এক রোহিঙ্গাসহ ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রামু উপজেলায় ৬, কক্সবাজার সদর উপজেলায় দুই এবং কক্সবাজার পৌরসভা, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও উখিয়ায় একজন করে চার শিশুর মৃত্যু হয়।
গত ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১৪৫৯ জন। এর মধ্যে ৩৬৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা পাঠানো হয়। সেই নমুনা পরীক্ষায় ১১৯ জনকে হামে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়।