০৬ মে, ২০২৬
চেন্নাই সুপার কিংস মানেই মহেন্দ্র সিং ধোনি। হলুদ জার্সি, চিপকের গ্যালারিতে হাজারো সমর্থকের উচ্ছ্বাস আর থালার অদম্য নেতৃত্ব। এসবই যেন একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। কিন্তু সময়ের চাকা কাউকে ছাড়ে না। আইপিএলের চলতি আসরে (২০২৬) পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটাই হয়তো ধোনির শেষ মৌসুম।
গত মৌসুম থেকেই বিদায়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। প্রতিটি ম্যাচে ধোনিকে ঘিরে যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হতো, তা যেন একটা আবছা বিদায়ী সুর বাজিয়ে দিয়েছিল। এবার সেই অনুমান আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। চেন্নাই সুপার কিংস ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে, কিন্তু ধোনিকে এখনও মাঠে দেখা যায়নি।
শুরুতে ক্যালফ ইনজুরির কারণে দুই সপ্তাহের বিশ্রামের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাবর্তন হয়নি। দল যখন দিল্লিতে খেলতে গিয়েছে, ধোনি তখন চেন্নাইয়ে থেকে অনুশীলন করছেন। ব্যাট হাতে অনুশীলন করতে দেখা গেছে তাঁকে, কিন্তু অ্যাওয়ে ম্যাচে যাওয়া হয়নি। এ থেকে স্পষ্ট, দলও ধোনিকে শুধু ঘরের মাঠের জন্যই প্রস্তুত রাখছে।
হাতে এখন মাত্র কয়েকটি ম্যাচ বাকি। তার মধ্যে চেন্নাইয়ের ঘরের মাঠে দুটি ম্যাচ রয়েছে। চিপকের দর্শকরা হয়তো তাঁদের প্রিয় নায়ককে শেষবারের মতো রাজকীয় বিদায় জানানোর সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে ১৮ মে-এর ম্যাচটিকে ধোনির সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ধোনি ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। অধিনায়ক হিসেবে তিনি চেন্নাইকে পাঁচবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করেছেন। মাঠে শান্ত অথচ দৃঢ় নেতৃত্ব, ফিনিশারের অসাধারণ দক্ষতা আর উইকেটকিপিংয়ের নৈপুণ্য। সব মিলিয়ে তিনি কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন। চিপকের হলুদ সমুদ্রে ‘থালা’ ডাক যেন এখনও অনুরণিত হয়।
তবে বয়স এবং শরীরের সীমাবদ্ধতা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠা এবং ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দলও পরিকল্পনা করছে সেই অনুযায়ী। যদি ধোনি শেষ দুটি ঘরের ম্যাচে খেলেন, তাহলে চেন্নাইয়ের দর্শকরা তাঁকে উপযুক্ত সম্মান জানাতে প্রস্তুত।
ক্রিকেটপ্রেমীরা জানেন, ধোনি কখনো নাটকীয় বিদায় চাননি। তিনি চান শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রস্থান। চলতি আসরের শেষে যদি সত্যিই তাঁর হলুদ জার্সির অধ্যায় শেষ হয়, তবে তা হবে ক্রিকেটের এক সোনালি যুগের ইতি। চিপক তখন শুধু একটা স্টেডিয়াম থাকবে না, হয়ে উঠবে ধোনির স্মৃতির অমর মন্দির।