০৬ মে, ২০২৬
সীমান্ত ও রাজনৈতিক বৈরিতার জেরে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত-পাকিস্তানের ক্রীড়াভিত্তিক সম্পর্কের দড়িও আলগা হয়ে পড়েছিল। তাতে আরও ক্ষোভের আগুন ঢালে ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা। তাদের অভিযোগের তির পাকিস্তানের দিকে। যার জেরে কয়েকদিন সামরিক সংঘাতে জড়ানোর পর পাকিস্তানি অ্যাথলেটদের ভারতের ভিসা প্রাপ্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে ভারত।
গতকাল (মঙ্গলবার) ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়, ‘ভারতে অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক ইভেন্টে পাকিস্তানি খেলোয়াড় ও দল অংশ নিতে পারবে। তবে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া ইভেন্টের ক্ষেত্রে ভারতীয় দল পাকিস্তানে অংশ নেবে না। একইভাবে পাকিস্তানি দলকেও ভারতে খেলতে দেওয়া হবে না। আমরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর প্রচলিত নিয়ম এবং আমাদের নিজস্ব ক্রীড়াবিদদের স্বার্থের জন্য পরিচালিত হই।’
অবশ্য আন্তর্জাতিক ইভেন্টেই কেবল পাকিস্তানি অ্যাথলেটদের ভারতে গিয়ে খেলতে দেখা যেত। ভারতীয়রা সে দেশে গিয়ে কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া থেকে লম্বা সময় ধরে বিরত রয়েছে। এ ছাড়া ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ বন্ধ রয়েছে ২০১২ সালের পর থেকে। সে হিসেবে ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তে চমকপ্রদ বা ভিন্ন কোনো বার্তা নেই। কেবল পেহেলগাম হামলাকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াঙ্গনে অচলাবস্থা বা পাকিস্তানি অ্যাথলেটদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কমতে পারে!
এদিকে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রিকেটীয় সম্পর্ক নিয়ে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটুট থাকলে ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তও খুব একটা প্রভাব রাখতে পারবে না। কারণ পাকিস্তানও ভারতের মাটিতে গিয়ে ক্রিকেটীয় কোনো ইভেন্ট না খেলার পথ ধরেছে, যদিও তা নির্দিষ্ট মেয়াদে। কিন্তু এমন চিত্র ভবিষ্যতেও বজায় থাকলে অবাক হওয়ার থাকবে না। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হাইব্রিড মডেলের ক্রিকেটীয় চুক্তি রয়েছে। যা কার্যকর থাকবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। এর অধীনে ভারতে কোনো বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপ থাকলে পাকিস্তানের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যু এবং পাকিস্তানে এমন কোনো ইভেন্ট থাকলে ভারতের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যু রাখতে হবে।
ভিসা নিয়েও পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে এমন সিদ্ধান্ত জানিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বলছে, ‘ক্রীড়াবিদ, দলীয় কর্মকর্তা, প্রযুক্তিগত কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের দায়িত্বকালীন সময়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত “মাল্টি-এন্ট্রি ভিসা” অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হয়।’
ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নতুন ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশটি নিজেকে একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। ভারত ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করবে এবং ২০৩৬ অলিম্পিক ও ২০৩৮ এশিয়ান গেমসের স্বত্ব পেতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের কর্মকর্তারা ভারতের প্রস্তাব মূল্যায়নে আহমেদাবাদ সফর করবেন। এ ছাড়া ২০২৯ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপও আয়োজন করবে ভারত।
অন্যদিকে, আগামী কয়েক মাসে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রীড়াবিদরা একাধিকবার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ– জুলাই-আগস্টে কমনওয়েলথ গেমস এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এশিয়ান গেমস। এ ছাড়া হকিতেও অন্তত তিনবার দুই দেশ মুখোমুখি হবে, ২৩ ও ২৬ জুন লন্ডনে এফআইএইচ প্রো লিগ এবং ১৯ আগস্ট আমস্টারডাম বিশ্বকাপে। যদিও এসব খেলা হবে ভারত-পাকিস্তানের বাইরে।