০৬ মে, ২০২৬
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। এজন্য আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন বাড়ানো নাও হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে পে-স্কেলে কত শতাংশ বেতন বাড়তে পারে।
বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কথা বলেছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক আব্দুল মালেকের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন স্কেল ৮২৫০ টাকা। এর ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করলে হয় ১৪ হাজার টাকার মতো। আর ৬০ শতাংশ করলে ১২-১৩ হাজার মূল বেতন হয়। তবে পে-কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ হলে সেটি কমিশনের সুপারিশের সাথে সামঞ্জস্য হবে না।’
তিনি বলেন, ‘অতীতে যতগুলো পে-স্কেল হয়েছে সবগুলোতেই নিচের দিকের গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ বা তার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেসিক যদি ১৬ হাজার বা ১৭ হাজার টাকা হয়, তাহলে সেটি এমনিতেই ১০০ শতাংশ বা তার বেশি হয়ে যাবে। আমরা আশা করবো সরকার পে-কমিশনের সুপারিশের ন্যূনতম বেতনের বিষয়টি বহাল রাখবে।’
আব্দুল মালেক বলেন, ‘২০১৫ সালে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮২৫০ টাকা করা হয়। ২০২০ সালে পে-স্কেল হলে কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ১৬৫০০ টাকা হত; ২০২৫ সালে আমাদের আরেকটি পে-স্কেল পাওয়ার কথা ছিল। এই দুটি পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৩৩০০ হাজার টাকা হত। সেজন্য আমরা সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিলাম।’
তার মতে, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত পে-কমিশন পুলিশ, সেনাবাহিনী, শিক্ষকসহ ২০০টি সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। তারা সব সংগঠনের সুপারিশগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এরপর সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন স্কেল ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। সেখানে যদি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয় তাহলে সেটি আমাদের কোনো কাজে আসবে না। আমরা আশা করছি অন্তর্বর্তী সরকারের সুপারিশই বহাল রাখবে বর্তমান সরকার।’
এদিকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে গঠিত পে-কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। তবে বর্তমান সরকারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় এটি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানা গেছে।
গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। প্রথম ধাপে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে এই ৫০ শতাংশ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী হবে না। কমিশন মূল বেতন বৃদ্ধির যে সুপারিশ করেছে সেটির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ করার পর যে অর্থ হয়, সেই অর্থের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে সূত্রটি।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি যে সুপারিশ করেছে, সেই সুপারিশের আলোকে আমরা কাজ করছি। শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। নবম পে-স্কেল প্রণয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কঠিন। এজন্য মূল বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’
জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত বাজেটের খসড়া প্রস্তুত করেছে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ এবং পরের অর্থবছরে বাকি অংশ দেওয়া হতে পারে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে যুক্ত হতে পারে ভাতা।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেয়। তখন জানানো হয়েছিল, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও বেতন কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনটি প্রতিবেদনের জন্য সুপারিশ তৈরি করতে গত মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
এ কমিটিই তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে। সূত্রগুলো বলছে জানায়, তিন ধাপে বাড়তি অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ দিতে বাজেটে অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হতে পারে।