ঝাড়খণ্ড ও বিহারের শীর্ষ করদাতা ধোনি

০৯ মে, ২০২৬

চোটের কারণে চলতি আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে এখনও মাঠে নামতে না পারলেও নতুন এক নজির গড়লেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ঝাড়খণ্ড ও বিহার অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ করদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন বিশ্বকাপজয়ী ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে আয়কর বিভাগের মোট রাজস্ব আদায় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকায়। আয়কর বিভাগের প্রধান মুখ্য কমিশনার ডি. সুধাকর রাও জানিয়েছেন, এই দুই রাজ্য মিলিয়ে ব্যক্তিগত করদাতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ কর দিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। 

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিহার ও ঝাড়খণ্ড মিলিয়ে ধোনিই ছিলেন শীর্ষ ব্যক্তিগত করদাতা। দুই রাজ্য থেকে মোট রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে এককভাবে ঝাড়খণ্ড থেকেই এসেছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।’  

তিনি জানান, মোট সংগ্রহের প্রায় ৭০ শতাংশই টিডিএসের মাধ্যমে এসেছে। তবে ধোনির মোট কর পরিশোধের নির্দিষ্ট অঙ্কটি প্রকাশ করা হয়নি। 

কর্পোরেট করদাতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে সেন্ট্রাল কোলফিল্ডস লিমিটেড, ভারত কোকিং কোল লিমিটেড এবং সিএমপিডিআই। আয়কর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে খনি শিল্পে কিছুটা ধীরগতি দেখা দেয়, যার প্রভাব কর আদায়েও পড়ে। তবে চলতি অর্থবছরে ২০ হাজার কোটির সীমা অতিক্রম করবে রাজস্ব সংগ্রহ— এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান আয়কর কমিশনার ডি. সুধাকর রাও। 

তিনি আরও জানান, বিহার ও ঝাড়খণ্ড মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ প্যান কার্ডধারী হলেও মাত্র প্রায় ৪০ লক্ষ করদাতা নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দেন। তাই করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং কর সচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে আয়কর বিভাগ।  

এদিকে, নতুন আয়কর আইন ২০২৫ নিয়েও ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইন ১৯৬১ সালের পুরোনো আয়কর কাঠামোর জায়গা নেবে। এ বিষয়ে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের আয়কর কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শতাধিক আধিকারিক অংশ নেন। 

ডি. সুধাকর রাওয়ের মতে, নতুন আয়কর আইন হবে আরও সহজবোধ্য ও স্বচ্ছ। ভাষাগত সরলতা ও সুসংগঠিত কাঠামোর কারণে কর ব্যবস্থার জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে, যদিও মূল করনীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। পাশাপাশি ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিহার ও ঝাড়খণ্ড জুড়ে একাধিক প্রচার কর্মসূচি হাতে নিতে যাচ্ছে আয়কর বিভাগ।