আওয়ামী লীগ নেতাকে জিম্মি করে টাকা আদায়, আটক ৩

১০ মে, ২০২৬

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঝিনাইদহের মহেশপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদকে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর স্ত্রী তহমিনা শম্পা শনিবার দুপুরে বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করলে রাতে পুলিশ তাদের আটক করে।

আটককৃতরা হলেন- ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার হাটখালিশপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহবুবুর রহমান, একই গ্রামের মৃত মইনউদ্দিন মণ্ডলের ছেলে মিজানুর রহমান (ছোট), এবং কুরিপোল গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম আলীর ছেলে ফিরোজ, যিনি সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মামলার বাদী তানিয়া খাতুনের স্বামী।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাজ্জাদের সঙ্গে ওই চক্রের এক সদস্যের মোবাইল ফোনে কথোপকথনের কল রেকর্ড ফাঁস হয়েছে।

সেখানে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিতে শোনা গেছে। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল নারী নেত্রী ও নাটিমা কুরিপোলের টালিখোলা পাড়ার ফিরোজের স্ত্রী তানিয়া খাতুন কাজের কথা বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদকে মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর গরুর হাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফাঁদ পেতে তাকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।

এ সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং জোরপূর্বক নগদ ১ লাখ টাকা আদায় করা হয়। পাশাপাশি স্বাক্ষর করা ২ লাখ টাকার দুটি ব্যাংক চেকও ছিনিয়ে নেয়া হয়। ঘটনাস্থলে তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ওই ছবি ও ভিডিও সামাজিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও ৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

মান-সম্মান রক্ষায় সাজ্জাদ চেকের মাধ্যমে আরও ১ লাখ টাকা প্রদান করেন। এরপর চক্রটি অতিরিক্ত ৬ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় ৫ মে তানিয়া খাতুন বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ সাজ্জাদকে মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর এলাকা থেকে শনিবার দুপুরে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

এরপর শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের আরও তিনজনকে আটক করে।

এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, এর আগেও ওই নারীর বিরুদ্ধে একই কৌশলে আরেক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।