১২ মে, ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরীর বায়োজিদ থানা এলাকায় গুলি করে মো. হাসান রাজু নামের এক যুবককে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম। অভিযানের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৭ মে রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে রৌফাবাদ শহীদ মিনারের পাশে বাঁশবাড়িয়া গলির দেলোয়ারের ভাড়া ঘরের সামনে কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী উপর্যুপরি গুলি চালায়।
এতে মো. হাসান রাজু মারা যান। এ সময় রেশমি আক্তার (১২) নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত হাসানের মা সকিনা বেগম (৬৩) গত শনিবার বায়েজিদ থানায় মামলা করেন।
সিএমপি উত্তর জোনের উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১১ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সন্দেহে কক্সবাজারের সুগন্ধ সৈকত এলাকা থেকে সৈয়দুল করিম (২৭) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং ঘটনাস্থলে পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া আসামিদের বহনকারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। পরে ওই অটোরিকশাচালক আব্দুল মান্নানকে (৩৭) একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর করিমকে সহায়তাকারী হিসেবে ইউনুচ মিয়া (২৪) ও আলী আদনানকে (২১) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রৌফাবাদ ব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে অটোরিকশাচালকের তথ্যের ভিত্তিতে আসামি আবু বক্কর ছিদ্দিক (৪৮) ও আজগর আলীকে (৩৯) সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতার ও অবশিষ্ট আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।