সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ১৪ পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৩ পদে বিএনপি জয়ী

১৫ মে, ২০২৬

দেশের আইনজীবীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৩টি পদেই বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি–সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেলের (নীল প্যানেল) প্রার্থীরা। সদস্যের একটি পদে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (সবুজ প্যানেল) প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা–সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী

ঘোষিত ফলাফল অনুসারে, নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দুই হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সুবজ প্যানেলের আবদুল বাতেন ৭৮৮ ভোট পেয়েছেন।

নীল প্যানেল থেকে সম্পাদক পদে দুই হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে মোহাম্মদ আলী জয়ী হয়েছেন। এই পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সুবজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার ৭৮৬ ভোট পেয়েছেন।

গত ২ এপ্রিল এক নোটিশে সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের (২০২৬–২৭) তারিখ ঘোষণা করা হয়। ১৩ মে (গত বুধবার) ও ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে মাঝখানে ১ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হয়।

এক বছর মেয়াদে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এ নির্বাচন হয়ে থাকে। পদগুলো হলো একজন সভাপতি, দুজন সহ-সভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুজন সহসম্পাদক ও সাতজন সদস্য।

নীল প্যানেল থেকে সহ-সভাপতির দুটি পদে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান নির্বাচিত হয়েছেন। নীল প্যানেল থেকে সমিতির কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান জয়ী হয়েছেন। নীল প্যানেল থেকে সহ-সম্পাদকের দুটি পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল বিজয়ী হয়েছেন।

সদস্য ৭টি পদের মধ্যে ছয়টি পেয়েছে নীল প্যানেলের প্রার্থীরা। তারা হলেন এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী, মো. কবির হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও মো. টিপু সুলতান।

সদস্যের অপর একটি পদ বিজয়ী হয়েছেন সুবজ প্যানেলের আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৪০ জন প্রার্থী হন। এবারের নির্বাচনে ১১ হাজার ৯৭ ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৪৮ জন ভোট দেন।

সমিতির এ নির্বাচনকে নির্দলীয় বলা হয়। তবে দৃশ্যত রাজনৈতিক দলের সমর্থক আইনজীবীদের থেকে মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে প্যানেলের আদলে নির্বাচন হয়ে থাকে। বিগত সময়ে সমিতির নির্বাচনে বরাবরই বিএনপিপন্থী (নীল হিসেবে পরিচিত) ও আওয়ামী লীগপন্থী (সাদা হিসেবে পরিচিত) আইনজীবী প্যানেলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো।

অবশ্য ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) হয়। সেখানে দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

সমিতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবারের নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা (সাদা প্যানেল) নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তবে বিএনপি–সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল (নীল প্যানেল), জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (সবুজ প্যানেল) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সমর্থিত ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্স মনোনীত প্যানেলের (লাল-সবুজ প্যানেল) প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেন। নীল ও সবুজ প্যানেল থেকে ১৪টি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়। লাল-সবুজ প্যানেল ছয়টি পদে প্রার্থী দেয়। এ তিন প্যানেলের বাইরে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।