১৬ মে, ২০২৬
টানা সাত-আট দিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি বা দেশের বাইরে যাওয়ার সময় অনেকেই ফ্রিজ চালু রাখা না–রাখা নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন। পবিত্র ঈদুল আজহার লম্বা ছুটিতে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার আনন্দ যেমন থাকে, তেমনি দুশ্চিন্তা থাকে ফ্রিজে থাকা খাবারদাবার নিয়েও। আবার ছুটি কাটিয়ে ফিরেই শুরু হয় কোরবানির মাংস সংরক্ষণের ব্যস্ততা। দীর্ঘ ছুটিতে ফ্রিজ ব্যবস্থাপনা এবং কোরবানির মাংসের পুষ্টিগুণ বজায় রেখে ফ্রিজিং করার সঠিক উপায় জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান।
ফ্রিজের খাবার ও এয়ারটাইট বক্সের ব্যবহার
ইসরাত জাহান বলেন, ‘সাত-আট দিনের লম্বা ছুটিতে বাসার বাইরে গেলে ফ্রিজের খাবারগুলো নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে কাঁচা সবজি এবং মাংস কোনোভাবেই একসঙ্গে রাখা যাবে না। প্রতিটি খাবার সংরক্ষণের জন্য অবশ্যই “এয়ারটাইট বক্স” বা ভালো মানের ঢাকনাযুক্ত পাত্র ব্যবহার করতে হবে। এতে খাবারের আর্দ্রতা ও মান ঠিক থাকে এবং একটির সংস্পর্শে অন্যটি দূষিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।’
রক্ত ঝরিয়ে মাংস সংরক্ষণ
কোরবানির মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। ইসরাত জাহানের মতে, কোরবানির পর মাংসের গায়ে লেগে থাকা রক্ত ভালোভাবে ঝরিয়ে নিতে হবে। রক্ত পরিষ্কার করার পর পানি ঝরিয়ে তবেই ঢাকনাসহ বক্সে ভরে ফ্রিজে রাখা উচিত। ঢাকনাহীন বা খোলা অবস্থায় মাংস রাখা একদমই অনুচিত।
পরিমাণ অনুযায়ী ফ্যামিলি প্যাক
ফ্রিজে মাংস রাখার সময় বড় স্তূপ না করে ছোট ছোট অংশ বা ‘ফ্যামিলি প্যাক’ করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। ইসরাত জাহান পরামর্শ দেন, প্রতিবার রান্নার জন্য যতটুকু মাংস প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই আলাদা প্যাকেটে বা বক্সে রাখতে হবে। কারণ, ফ্রিজ থেকে একবার মাংস বের করে বরফ গলানোর পর সেটি আবার ফ্রিজে রাখা যাবে না। তাই ছোট ছোট মাপে প্যাকেট করলে মাংসের গুণমান অটুট থাকে এবং অপচয় রোধ হয়।
অন্য খাবার থেকে মাংসের দূরত্ব
ফ্রিজে কোরবানির মাংস রাখার সময় এর আশপাশে অন্য কোনো রান্না করা খাবার বা ফলমূল রাখা যাবে না। কাঁচা মাংসের জন্য ফ্রিজে আলাদা জায়গা নির্দিষ্ট করা জরুরি। এতে অন্য খাবারে কাঁচা মাংসের গন্ধ বা জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে না।
সংরক্ষণের সময়সীমা
সঠিক নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করলে কোরবানির মাংস সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ফ্রিজে থাকলে ধীরে ধীরে মাংসের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ কমতে থাকে। এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।