ইউরিন ইনফেকশনকে অবহেলা নয়, বিকল হতে পারে কিডনিও!

১৭ মে, ২০২৬

ইউরিন ইনফেকশন বা মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা। সাধারণত দিন কয়েকের সঠিক চিকিৎসায় এটি ঠিক হয়ে যায়। তাই বলে সমস্যাটিকে হালকাভাবে নেওয়া একদমই উচিত নয়। কেননা শুরুর দিকে সাধারণ প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া বা ঘন ঘন প্রস্রাব থাকলে সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি গুরুতর হতে পারে। এমনকি কিডনি বিকলের কারণও হতে পারে। 

ইউরিন ইনফেকশন কেন হয়? কখন এটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে? এর থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায়ই বা কী? চলুন জানা যাক- 

ইউরিন ইনফেকশন কেন হয়? 

মূলত ‘ই. কোলাই’ (E. coli) নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে এই সংক্রমণ হয়ে থাকে। এই ব্যাকটেরিয়া কোনোভাবে মূত্রনালীতে প্রবেশ করলে সেখানেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া এবং নোংরা বা পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের কারণে ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। 

এছাড়া, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার কারণেও অনেকসময় এই সংক্রমণ হতে পারে। এটি মূত্রথলি (Bladder), মূত্রনালী (Urethra) এবং শেষ পর্যন্ত কিডনিকে আক্রান্ত করে।

ইউরিন ইনফেকশন কখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে? 

ইউরিন ইনফেকশন যতক্ষণ পর্যন্ত মূত্রথলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, ততক্ষণ এটি তেমন বড় কোনো বিপদ ঘটায় না। কিন্তু এই ইনফেকশন যদি মূত্রনালী বেয়ে কিডনি পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলেই তা মারাত্মক হয়ে ওঠে। 

দীর্ঘদিন শরীরে এই সংক্রমণ শরীরে পুষে রাখলে কিডনি ড্যামেজ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিডনিতে ইনফেকশন ছড়ালে শরীরে কিছু বিশেষ উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন— প্রচণ্ড জ্বর, কাঁপুনি দিয়ে ঠান্ডা লাগা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়। শরীরে এমন সব লক্ষণ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

ইউরিন ইনফেকশনের সাধারণ লক্ষণ

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি? 

যেকেউ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। এরা হলেন- 

প্রবীণ বা বয়স্ক ব্যক্তি
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী
গর্ভবতী নারী
যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি দুর্বল।

ইউরিন ইনফেকশন থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায় কী?

পর্যাপ্ত পানি পান: 

শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া উচিত। এতে মূত্রনালীতে থাকা ব্যাকটেরিয়া প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে। 

প্রস্রাব চেপে না রাখা: 

দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করুন। প্রস্রাব আটকে রাখলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করার সুযোগ পায়।

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: 

সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার করুন এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিন।

ভুল ওষুধ না খাওয়া: 

সামান্য সমস্যাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। এতে ঝুঁকি বাড়ে।