১৭ মে, ২০২৬
খুশকি অনেকের কাছেই শুধু সৌন্দর্যহানির নয়, বিব্রতকর এক সমস্যার নাম। তবে খুশকি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ সঠিক পরিচর্যা, উপযুক্ত শ্যাম্পু ও কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। খুশকি কেন হয়, এর লক্ষণ কী এবং কিভাবে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে—তা নিয়ে হেলথলাইন এ প্রতিবেদন করেছে।
খুশকি হওয়ার কারণ
খুশকি মূলত সেবোরিক ডার্মাটাইটিস এর সঙ্গে সম্পর্কিত, যা মাথার ত্বকে চুলকানি ও খোসা ওঠার কারণ হয়। তবে খুশকির নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা কঠিন।
কারণ একাধিক বিষয় এর জন্য দায়ী হতে পারে।
খুশকির পেছনে যেসব কারণ থাকতে পারে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাথার ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ, ত্বকের ওপর ছত্রাকের বিস্তার, মালাসেজিয়া নামের এক ধরনের ইস্টের কারণে মাথার ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করে অতিরিক্ত ত্বক কোষ সৃষ্টি হওয়া, নিয়মিত শ্যাম্পু না করায় মৃত ত্বক জমে খোসা ও চুলকানি তৈরি হওয়া, অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারে মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলা, খুব বেশি বা জোরে চুল আঁচড়ানোর ফলে মাথার ত্বকে ঘর্ষণ তৈরি হওয়া, ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যে অ্যালার্জি বা কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস, রোদে মাথার ত্বকের ক্ষতি, টাইট টুপি বা মাথায় অতিরিক্ত চাপ, পুষ্টিহীন খাদ্যাভ্যাস, ধুলাবালি বা ময়লার সংস্পর্শে থাকা ইত্যাদি।
খুশকি হওয়ার প্রবণতা কিছু মানুষের তুলনামূলক বেশি হতে পারে। যেমন, পুরুষদের মধ্যে খুশকি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
অনেকের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকালে এর লক্ষণ শুরু হয়, তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে।
যাদের চুল বেশি তৈলাক্ত বা যারা পারকিনসনস রোগ, এইচআইভি কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে এমন অসুস্থতায় ভুগছেন তাদের ঝুঁকি বেশি।
খুশকির যত লক্ষণ
খুশকির প্রধান লক্ষণ হলো মাথার ত্বকে খোসা ওঠা এবং চুলকানি। সাধারণত তৈলাক্ত সাদা বা হলদেটে খোসা চুল ও কাঁধে জমে থাকে। শুষ্ক আবহাওয়ায় এ সমস্যা বাড়তে পারে।
খুশকির অন্যান্য লক্ষণ— তৈলাক্ত খোসা, মাথার ত্বকে চুলকানি, মাথার ত্বক বা মুখে লালচে ও জ্বালাপোড়া হওয়া অংশ, ভ্রুতেও খুশকি হওয়া, চুল পড়া, মুখের ত্বকে শুকনো খোসা ওঠা।
খুশকি নাকি শুষ্ক মাথার ত্বক?
খুশকি ও শুষ্ক মাথার ত্বকের লক্ষণ প্রায় একই রকম—চুলকানি ও খোসা ওঠা। তবে এদের কারণ ভিন্ন।
খুশকি মূলত সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর শুষ্ক মাথার ত্বক হয় যখন ত্বক অতিরিক্ত আর্দ্রতা হারায়। কম পানি পান, অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত পণ্য ব্যবহার বা শুষ্ক আবহাওয়াও এর কারণ হতে পারে।
খুশকি দূর করবেন যেভাবে
খুশকি দূর করতে ওষুধ, শ্যাম্পু এবং কিছু ঘরোয়া উপায় কার্যকর সমাধান হতে পারে।
খুশকির শ্যাম্পু
খুশকির শ্যাম্পু ব্যবহারে সমাধান পেতে হলে মানতে হবে নিয়ম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন খুশকির শ্যাম্পু ব্যবহারে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হলো —
ঘরোয়া প্রতিকার
অনেকে ওষুধের আগে প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করতে চান। সেগুলো হলো—
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘরোয়া উপায়ের কার্যকারিতা নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। তাই নতুন কিছু ব্যবহারের আগে অবশ্যই মাথার ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়াই ভালো।
খুশকি প্রতিরোধে যা করণীয়
খুশকি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। বিশ্বজুড়ে প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনো সময়ে এ সমস্যায় ভোগেন। এজন্য প্রতিরোধই উত্তম পন্থা।
মানসিক চাপ কমান
চাপ বা স্ট্রেস খুশকি বাড়াতে পারে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি চাপ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়, যা মালাসেজিয়া ছত্রাক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
প্রতিবেলা চুল আঁচড়ান
প্রতিদিন অন্তত দুবার চুল আঁচড়ানো উপকারী হতে পারে। মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল বা সিবাম পুরো চুলে ছড়িয়ে পড়ে বলে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল থাকে। এছাড়াও চুলে জট কম হয় এবং সারাদিনের জমে থাকা ময়লা দূর হয়। ফলে খুশকিও কম হয়।
খোলা বাতাসে সময় কাটান
নিয়মিত খোলা পরিবেশে থাকলে মাথার ত্বকে তেল জমা কমতে পারে। ফলে খুশকিও কম হবে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
অনেক ক্ষেত্রেই শ্যাম্পু ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে খুশকি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।
যেমন—খুশকিতে যখন চুলকানি হয় এবং চুলকানি না কমলে, মাথার ত্বক ফুলে গেলে বা লাল হয়ে গেলে, খুশকি মুখ বা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে, সাধারণ শ্যাম্পুতে কাজ না হলে, দৈনন্দিন কাজে সমস্যা তৈরি হলে যেতে হবে চিকিৎসকের কাছে।
সতর্কতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, কখনও কখনও খুশকির মতো দেখালেও তা সোরিয়াসিস, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা স্ক্যাল্প রিংওয়ার্মের লক্ষণ হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি