১৮ মে, ২০২৬
যুদ্ধ বন্ধ ও আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া কর্মপরিকল্পনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের দৃশ্যমান ছাড় দেয়নি বলে দাবি করেছে ইরানি গণমাধ্যম। রবিবার ফার্স বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, উল্টো ওয়াশিংটন পাঁচ দফা শর্ত সম্বলিত একটি প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইরানকে কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা সচল রাখতে হবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সব মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
ফার্স জানায়, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদের অন্তত ২৫ শতাংশ ছাড় করতেও রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিকে আলোচনার আনুষ্ঠানিক সূচনার প্রধান শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সামনে এনেছে।
অন্যদিকে মেহর বার্তা সংস্থা বলেছে, কোনো দৃশ্যমান ছাড় না দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু আদায় করতে চাইছে, যা তারা যুদ্ধে অর্জন করতে পারেনি। এতে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবিও রয়েছে। একই সঙ্গে ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তেহরান সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
ফার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই থাকবে বলে ইরানের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেশিরভাগ সময় কার্যত বন্ধ রেখেছে ইরান।
রোববার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেখারচি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে তিনি বলেন, ইসলামি ইরানের ওপর আবার হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও সম্পদ নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়বে।
একইভাবে পার্লামেন্টের উপ-স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই ইরানের তেল অবকাঠামোয় হামলার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের তেল খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যার ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য এই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব তেল পাবে না।