১৮ মে, ২০২৬
ঢাকা টেস্টে জয়ের পর সিলেট টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাকি আর দুটি দিন। দুই টেস্টে সফরকারীদের ব্যাটিং বিবেচনায় নিলে জয়ের জন্য পাকিস্তানকে অভাবনীয় কিছুই করতে হবে। তৃতীয় দিন মাত্র দুই ওভার ব্যাট করতে পেরেছে সফরকারী দল। যদিও স্কোরবোর্ড এখনও শূন্য। ব্যাট করছেন আজান আওয়াইজ (০) ও আব্দুল্লাহ ফজল (০)।
ইতিহাস স্বাগতিকদের পক্ষেই রয়েছে। সিলেটে এখন পর্যন্ত হওয়া পাঁচটি টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে মাত্র একবারই সফল রান তাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। গত বছর বাংলাদেশকে তিন উইকেটে হারিয়ে ১৭৪ রান তাড়া করে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। এর বাইরে ভেন্যুটিতে চতুর্থ ইনিংসের লক্ষ্য ৩০০ ছাড়ালেই ব্যাটিং দলকে বড় ব্যবধানে হারের মুখে পড়তে হয়েছে।
সিলেটের মাঠে বাংলাদেশের স্মৃতিও খুব সুখকর নয়। ২০১৮ সালে ভেন্যুটির অভিষেক টেস্টে ৩২১ রান তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের কাছে ১৫১ রানে হেরেছিল টাইগাররা। এরপর ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৫১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ৩২৮ রানের বড় পরাজয় দেখতে হয়েছিল।
আবার ২০২৩ সালে একই মাঠে ৩৩২ রান তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড হেরে যায় ১৫০ রানে।
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সব টেস্ট মিলিয়ে ৩৫০ রানের বেশি সফলভাবে তাড়া করার ঘটনা ঘটেছে মাত্র একবার। ২০২১ সালে কাইল মেয়ার্সের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ৩৯৫ রান তাড়া করে স্মরণীয় জয় পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সিলেটের উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক। তাই পাকিস্তান কতটুকু প্রতিরোধ গড়তে পারে সেটাই দেখার।
এর আগে মুশফিকুর রহিসের রেকর্ড ১৪তম সেঞ্চুরিতে তৃতীয় দিন দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তার সেঞ্চুরির পাশাপাশি লিটন দাসের ৬৯ ও মাহমুদুল হাসান জয়ের ৫২ রানের ইনিংসও বড় অবদান রেখেছে।
তৃতীয় দিন লিটনের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১২৩ রান যোগ করেছন মুশফিক। তার পর সপ্তম উইকেটে তাইজুলকে নিয়ে যোগ করেছেন আরও ৭৭ রান। মুশফিক শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রানে থামতেই ৩৯ রানে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস।
পুরো দিনে পাকিস্তানের স্বস্তির জায়গা ছিল দিনের প্রথম দিকের ৪৫ মিনিট। তখন খুররম শাহজাদের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে ১৫ রানে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার পর ছিল শুধু বাংলাদেশের দাপট।