ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু

১৯ মে, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় শিশুসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। লিচুর বিচি গলায় আটকে এক শিশুর এবং ঘরের টিনের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কাঠমিস্ত্রির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। 

সোমবার (১৮ মে) ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে উপজেলার কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের দলপতিপুর গ্রামে লিচুর বিচি গলায় আটকে হোসেন (৮ মাস) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।  সে ওই গ্রামের মাহমুদুলের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে শিশুটিকে লিচু খাওয়ানোর সময় অসাবধানতাবশত একটি লিচুর বিচি তার গলায় আটকে যায়। মুহূর্তের মধ্যে শিশুটি শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে শুরু করলে পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটি মারা যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে একই দিন বিকালে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কেটগাঁও সিন্দুল্যা গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মিঠুন (৩৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের সুরেন্দ্র রায়ের ছেলে।

জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিঠুন মিত্রবাটি গ্রামে আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে ঘরের টিনের কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত ঘরের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে তিনি গুরুতর বিদ্যুৎস্পর্শ হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ওয়ারিস ইয়াজদানি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সকালে শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। বিকালে বিদ্যুৎস্পর্শ ব্যক্তিকে আনার পর ইসিজি পরীক্ষায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামাণিক জানান, গলায় লিচুর বিচি আটকে শিশুর মৃত্যু এবং বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।