২১ মে, ২০২৬
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করল ইরান। দেশটির ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ এই প্রণালিতে একটি বিশেষ ‘নিয়ন্ত্রিত সমুদ্র অঞ্চল’ (কন্ট্রোলড মেরিটাইম জোন) প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন এই নীতিমালার ফলে এখন থেকে এই অঞ্চল দিয়ে যেকোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ বা নৌযান পারাপারের ক্ষেত্রে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্বানুমতি এবং সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি বিবৃতিতে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই নতুন সমুদ্র অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমানা স্পষ্ট করেছে। এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটি প্রণালীর পূর্ব প্রবেশদ্বারে ইরানের ‘কুহ-ই মুবারক’ থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ‘ফুজাইরাহ’র দক্ষিণ পর্যন্ত এবং পশ্চিম প্রবেশদ্বারে ইরানের ‘কেশম দ্বীপের’ শেষ প্রান্ত থেকে ওমানের উপকূল ছুঁয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘উম্ম আল-কুওয়াইন’ পর্যন্ত বিস্তৃত।
ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই নির্ধারিত সীমানার ভেতর দিয়ে যেকোনো ধরনের ট্রানজিট বা নৌযান চলাচল করতে হলে তা অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন সাপেক্ষে হতে হবে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী মুক্তভাবে জাহাজ চলাচলের যে রীতি রয়েছে, ইরানের এই নতুন পদক্ষেপ সেটিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলে ধারণা করছেন সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
হরমুজ প্রণালিকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো (যেমন- সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে পৌঁছায়। প্রতিদিন বিশ্ব বাজারে সরবরাহ হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার অর্থ হলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের নিয়ন্ত্রণ পরোক্ষভাবে নিজেদের হাতে নেওয়া। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন এবং পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো ইরানের এই নতুন নৌ-সীমা নীতির কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।