বরিশালে 'হানি ট্র্যাপ' চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার

২১ মে, ২০২৬

বাড়ছে হানি ট্রাপ চক্রের প্রতারণা। চলতি মাসে হানি ট্রাপ চক্রের ১০ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ বুধবার রাতে এ চক্রের তিন নারীসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

তারা হলো- পাবনা সদরর হামিদপুর ডিসি রোডের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন আহমেদের ছেলে ইসতিয়াক আহমেদ বুলেট (৫০), বরিশাল নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোডের ভাড়াটিয়া ও গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. হোসেন শাহীন (৪৫), বাকেরগঞ্জের সঠিখোলা এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে মো. ফেরদৌস (২৯), বরিশাল নগরীর নলী দাসের পোল এলাকার বাসিন্দা মৃত আবুল হোসেন চৌধুরীর ছেলে সাকিব চৌধুরী (৩৮), পটুয়াখালীর বাউফলের কালিশুরী এলাকার মৃত মো. শাহজাহানের কন্যা সুমী (৩০), বরিশাল নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. আরিফের স্ত্রী ছোয়া আক্তার সনিয়া (২৬) ও টাউন স্কুল রোড এলাকার মো. ইলিয়াসের স্ত্রী আখি আক্তার (৩৮)। 

পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইল ফোন ও ফেসবুকে বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে নিজেদের আস্থানায় নিয়ে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণসহ নির্যাতন করে অর্থ আদায় করে। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক ভুক্তভোগী পারিবারিক ও নিজের সম্মান রক্ষায় বিষয়টি গোপন করে। বেশ কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্তে গিয়ে নগরীতে সক্রিয় বেশ কয়েকটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর চলতি মাসে তিনটি চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে নগরীর কাউনিয়া সাধুর বটতলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান করে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

মামলার বরাতে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, এক সরকারি চাকরিজীবীকে কৌশলে নগরীর সাধুর বটতলা এলাকার মাসুম মিয়ার ভাড়া বাসায় নেয়। সেখানে থাকা চক্রের সদস্যরা সরকারি চাকরিজীবীকে নগ্ন করে ও দুই নারীকে অর্ধনগ্ন করে ছবি ধারণ করে। পরে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে মারধর করে। বিষয়টি ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে জানালে তিনি পুলিশকে অবহিত করে। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। চাকরিজীবীর মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে কয়েকদিন পূর্বে এক আইনজীবীকে ফাঁদে ফেলার মামলায় হানি ট্রাপ চক্রের নারী সদস্য তাজরিন জাহান ইভাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে চক্রের অপর পাঁচ পুরুষ সদস্যকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। গত ৭ মে এক ইলেকট্রেশিয়ানকে বাসায় ডেকে নির্যাতন করে অর্থ আদায়ের ঘটনায় হানি ট্রাপ চক্রের সদস্য সুমাইয়া আক্তার ও তার স্বামী কাওরান ইসলাম আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও গত মার্চ নগরীর একটি হোটেল থেকে হানি ট্রাপ চক্রের সদস্য মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা ও সান্টু হাওলাদার এবং ৬ ডিসেম্বর পাখি আক্তার নিশি নামের সদস্যকে গ্রেফতার করে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।