ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

২৪ মে, ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রোববার (২৪ মে) ভোরে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই ভয়াবহ হামলায় চারজন নিহত এবং নারী-শিশুসহ শতাধিক আহত হয়েছেন। 

রুশ হামলায় রাজধানীর বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। খবর রয়টার্সের।

স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টার কিছু পর পুরো কিয়েভ শহর জুড়ে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর ঠিক আগেই ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছিল যে রাশিয়া এই হামলায় তাদের অত্যাধুনিক ‘ওরে্পনিক’ ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। 

তবে এই হামলায় ওরে্পনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানান, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শেভচেঙ্কো অঞ্চলের একটি ৯তলা আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। 

হামলার পর ভবনটিতে আগুন ধরে গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। 

ক্লিচকো আরও জানান, একই এলাকার একটি স্কুলের বিমান হামলা আশ্রয়কেন্দ্রের (এয়ার রেইড শেল্টার) প্রবেশপথে ধ্বংসস্তূপ জমে যাওয়ায় বেশ কয়েকজন মানুষ ভেতরে আটকা পড়েন। 

এছাড়া শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান জানিয়েছেন, শেভচেঙ্কোর একটি বিজনেস সেন্টারের আশ্রয়কেন্দ্রেও আরও কিছু মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শহরের সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভ শহরের ভেতরেই অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, কিয়েভের গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক জানান, বৃহত্তর কিয়েভ অঞ্চলের আশেপাশের এলাকায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

এর আগে গত শনিবার ইউক্রেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছিলেন যে, রাশিয়া ওরে্পনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনে বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর আগে দাবি করেছিলেন, শব্দের চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি গতিসম্পন্ন এই ওরে্পনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করা বা মাঝ আকাশে ধ্বংস করা অসম্ভব।

গত শুক্রবার রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের পূর্ব লোহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। মস্কোর দাবি ছিল, ইউক্রেন এই হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে রুশ সামরিক বাহিনীকে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন পুতিন। 

যদিও ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী রাশিয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য কোনো ছাত্রাবাস ছিল না, বরং তারা রাশিয়ার একটি ড্রোন কমান্ড ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরেই রোববার কিয়েভে এই ভয়াবহ হামলা চালাল মস্কো।