০৮ জুলাই, ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচি যাওয়ার পথে একটি কার্গো বা মালবাহী বিমান হঠাৎ রাডার থেকে হারিয়ে যায়।ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই নিখোঁজ কার্গো বিমানটির সন্ধানে বুধবার তল্লাশি অভিযান বিস্তৃতি করেছে পাকিস্তানের নৌবাহিনী ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটি বেসরকারি সংস্থা ‘কে-টু এয়ারওয়েজ’-এর।
এতে মোট পাঁচজন আরোহী ছিলেন। আকাশে ওড়ার পর বিমানটির দিকনির্দেশনা বা নেভিগেশন সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয় বলে জানানো হয়েছিল। বর্তমানে আরব সাগরের বিশাল এলাকা জুড়ে খোঁজ চলছে। তবে বর্ষাকালের উত্তাল ঢেউ এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
বিমানটির ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। কে-টু এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তারা তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করছে এবং সহকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য মন থেকে প্রার্থনা করছে।
পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাত ৯টা ২১ মিনিটের দিকে রাডারে বিমানটির দিক হঠাৎ খুব দ্রুত বদলে যেতে দেখা যায়।
এরপর এটি দ্রুত নিচে নামতে থাকে। করাচি থেকে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে পৌঁছানোর পর রাডার ও রেডিওর সাথে বিমানটির যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিমান নিখোঁজ হওয়ার পরপরই সামরিক ও বেসামরিক সংস্থাগুলো সাগরে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস জুলফিকার’ এবং বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এছাড়া টারবত শহর থেকেও একটি বিমান এবং একটি বাণিজ্যিক জাহাজ এই তল্লাশিতে যোগ দিয়েছে।
বিমান বিশেষজ্ঞ ইমরান আসলাম মঙ্গলবার রাতে জানান, বিমানটি কেন রাডার থেকে হারিয়ে গেল তা এখনো পরিষ্কার নয়। ইঞ্জিনে সমস্যা হলেও সাধারণত বিমান কিছুক্ষণ বাতাসে ভেসে থাকার কথা, হুট করে নিচে পড়ার কথা নয়। পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়ার পরই আসল কারণ জানা যাবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মে মাসে করাচি বিমানবন্দরের কাছে লোকালয়ে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৯৮ জন মারা যান। পরে তদন্তে জানা যায়, পাইলট এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ভুলের কারণেই ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল।