হাওরাঞ্চলে কৃষকের ফসলের ক্ষতির প্রভাব পড়েছে কোরবানির হাটেও

২৭ মে, ২০২৬

নেত্রকোনার ১০ উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে পুরোদমে চলছে কোরবানির পশু বেচাকেনা। তবে এ বছর হাওরাঞ্চল নেত্রকোনায় দুর্যোগে পড়েছেন কৃষকরা। যে কারণে বিক্রি করে দিচ্ছেন পশু। ফলে হাটে বিক্রেতা বেশি, ক্রেতা কম। যে কারণে কোনোরকম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন পশু। 

তবে পাইকার বা মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীরা বাজার বদল করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা।

প্রথম দিকে কোরবানির পশুর হাট না জমলেও শেষের দিকে জমজমাট হয়েছে সকল হাট। তবে এখনো বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে বিক্রেতাই বেশি।

নেত্রকোনা জেলার পুরোনো স্থায়ী পশুর হাট তেলিগাতী, মদন, মজিহাটি, আমতলা, চল্লিশাসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে গতবারের তুলনায় এবার অনেক কম দামে গরু কিনেছেন ব্যবসায়ী এবং মৌসুমি গরু বিক্রেতারা। কোরবানির জন্য সরাসরি গ্রাহক প্রথম দিকে পাওয়া যায়নি। যে কারণে অনেক কম দামে কিনেছে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা কম দামে বিক্রি করেছেন গরুর মালিক কৃষকরা। ফসল ডুবে যাওযায় গোখাদ্যেরও সংকট পড়ায় অনেকে বিক্রি করে দেন। কিন্তু কোরবানির দিন যত ঘনিয়ে আসছে তত দিনে বাজার বদল করে ব্যবসায়ীরা হাটে গুরু বিক্রি করেছেন। তখন দামও বেড়ে গেছে। তবে এবার বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় সামনে গোখাদ্যেরও সংকটের শঙ্কায় গরুর মালিকরা বিক্রি করে দিয়েছেন আগেই। 

এদিকে, গেল দুই তিন ধরে জেলার সর্বত্র স্থায়ী অস্থায়ী বাজারে রমরমা পশু বিক্রি হচ্ছে। বারহাট্টার নৈহাটি বাজারে ভারতীয় গরুর ব্যবসাও রমরমা বলে জানা গেছে। দেশি গরুর সমান সমান প্রায় ভারতীয় গরু বিক্রি হচ্ছে। মানুষ ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে গিয়ে ছোট বা মাঝারি গুরু বেশি পছন্দ করছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর মোট ১১৩টি হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে সদরে ৩৬টি, কেন্দুয়ায় ২৮টি, আটপাড়ায় ৯টি, মদনে ৮টি, মোহনগঞ্জে ৪টি, বারহাট্টায় ৪টি, কলমাকান্দায় ৭টি, পূর্বধলায় ৯টি, দুর্গাপুরে ৮টি। এ ছাড়া জেলায় ৪০টি স্থায়ী হাট রয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, এবার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৮টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তার মধ্যে বাড়তি রয়েছে ১৯ হাজার ১২১টি।