কালবৈশাখী ঝড় কেড়ে নিলো ঘর, অসহায় নারীর পাশে ডেপুটি স্পিকার

২৭ মে, ২০২৬

মনোয়ারা বেগম, তার ছিল জরাজীর্ণ একটি ঘর। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ে তাও ভেঙে গেছে। যা নিয়ে এক কনটেন্ট তৈরি করেছিলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুর রশীদ। যা নজরে পড়ে ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। এরপর উদ্যোগ নিয়ে তিনি অসহায় ওই নারীর ঘর করে দিয়েছেন। আর এমন মানবিক কাজ করে প্রশংসায়ও ভাসছেন ডেপুটি স্পিকার।

জানা গেছে, জীবনের অধিকাংশ সময়ই অভাব-অনটন আর একের পর এক শোক বুকে নিয়েই জীবন কাটাচ্ছিলেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন গ্রামের মনোয়ারা বেগম (৫৯)। তার স্বামী আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। স্বামীর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজেদের সামান্য জমিজমাও বিক্রি করে দেন তিনি। কিন্তু সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি। এর কিছুদিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তার একমাত্র ছেলে আলিফ মিয়া। স্বামী-সন্তান হারিয়ে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েন মনোয়ারা।

অভাবের তাড়নায় অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। দারিদ্রতার মধ্যেই প্রতিবেশীদের সহায়তায় তিন মেয়ের বিয়ে দেন। তবে মেয়েদের সংসারও স্বচ্ছল নয়। ফলে স্বামীর রেখে যাওয়া ছোট্ট একটি টিনের ঘরই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়। সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে সেই ঘরটিও বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে শুরু করেন তিনি।

ওই নারীর দুঃখ কষ্ট স্থানীয় আব্দুর রশীদ নামের একজন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভিডিওতে ওঠে আসা। যা দেখে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ঘরের ব্যবস্থা করেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে উপহারের নব নির্মিত নতুন টিনের ঘরে উঠেছেন আশ্রয়হীন নারী মনোয়ারা।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুর রশিদ বলেন, ‘মনোয়ারা বেগমের ঘরটি ঝড়ে ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য দেখে খুব খারাপ লেগেছিল। তাই আমি একটি ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতার আবেদন জানাই। ভিডিওটি নজরে আসে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। পরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মনোয়ারার জন্য নতুন ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। নতুন ঘর পেয়ে মনোয়ারার মুখে আবারও হাসি ফুটেছে। দীর্ঘদিন পর তিনি নিরাপদ একটি আশ্রয় পেলেন।’ 

ঘর পাওয়া মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার জীবনে একের পর এক কষ্টই এসেছে। স্বামীকে বাঁচাতে যা ছিল সব বিক্রি করেছি, তারপর একমাত্র ছেলেটাকেও হারালাম। অনেক কষ্ট করে মানুষের বাড়িতে কাজ করে দিন কাটিয়েছি। ঝড়ে যখন আমার শেষ আশ্রয়ের ঘরটাও ভেঙে গেল, তখন মনে হয়েছিল আল্লাহ হয়তো আমাকে আর বাঁচিয়ে রাখবেন না। খোলা আকাশের নিচে খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। আজ নতুন ঘরে উঠতে পেরে মনে হচ্ছে আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন পেলাম। ডেপুটি স্পিকার আমার মতো অসহায় একজন মানুষের কথা ভেবে ঘর তৈরি করে দিয়েছেন এটা আমি কোনোদিন ভুলব না। আমি তার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ রাখেন এবং মানুষের পাশে থাকার তৌফিক দেন।’

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমাদের সমাজে এখনও অনেক মানুষ আছেন, যারা নীরবে কষ্ট সহ্য করে জীবনযাপন করেন। মনোয়ারা বেগমের বিষয়টি জানতে পেরে আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি। একজন মানুষ জীবনে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও লড়াই করে টিকে আছেন, এটা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। একজন স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমি বিশ্বাস করি, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে অনেক অসহায় পরিবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মনোয়ারা বেগমের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করতে পেরে আমি মানবিক তৃপ্তি অনুভব করছি। ভবিষ্যতেও এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’